Homeখেলাভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ড বিধ্বস্ত, গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে ব্রাজিল

ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ড বিধ্বস্ত, গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের শুরুতে যে ব্রাজিলকে ছন্দহীন মনে হয়েছিল, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেই দলই যেন নিজেদের আসল রূপ দেখাল। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে উঠেছে মরক্কোও।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল এবং মাতেউস কুনিয়ার একটি গোলে বড় জয় পায় কার্লো আনচেলত্তির দল। অন্যদিকে আটলান্টায় হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নিজেদের কাজও সেরে রাখে মরক্কো।

ছন্দে ফিরল ব্রাজিল

বিরতির পর বদলি হয়ে মাঠে নামেন নেইমার। ব্রাজিলের জার্সিতে এর আগে নেইমার সর্বশেষ মাঠে নামেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে

টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে ব্রাজিল জয় পেলেও সমর্থকদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বিশেষ করে আক্রমণভাগে কাঙ্ক্ষিত ধার দেখা যায়নি। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলেছে সেলেসাওরা।

সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। এরপর আরও একটি গোল পেলেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে তা বাতিল হয়। তবে তাতে থেমে থাকেননি রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারাইসের ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস। এতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

কুনিয়ার গোল, গ্যালারিতে সাম্বার ঢেউ

বিরতির পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে ব্রাজিল। ৬০ মিনিটে দলীয় দারুণ এক আক্রমণ থেকে তৃতীয় গোলটি করেন মাতেউস কুনিয়া। গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্যালারিতে শুরু হয় সাম্বার উচ্ছ্বাস।

স্কোরলাইন ৩-০ হলেও ব্রাজিল আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক এবং রক্ষণভাগ না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

৯৮১ দিন পর ফিরলেন নেইমার

ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে ৭৬ মিনিটে। দীর্ঘ প্রায় ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার।

কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামার সময় পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে ধ্বনিত হয় ‘ওলে, ওলে, নেইমার’ স্লোগান। যদিও গোল পাননি, তবে মাঠে নেমেই কয়েকটি আক্রমণে নিজের উপস্থিতির জানান দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

সার্ফিংয়ের আদলে গোল উদ্‌যাপন কুনিয়া ও পাকেতার। গোলটি করেন কুনিয়া

গ্রুপসেরা ব্রাজিল, সঙ্গে মরক্কো

তিন ম্যাচ শেষে ব্রাজিল ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে। সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে উঠেছে মরক্কো।

অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে স্কটল্যান্ড তৃতীয় স্থানে রয়েছে। সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় জায়গা পাওয়ার আশায় এখন অপেক্ষা করতে হবে তাদের। হাইতির বিদায় অবশ্য আগেই নিশ্চিত হয়েছিল।

ভিনিসিয়ুসের বিশ্বকাপ

এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুই গোলের পর গ্রুপ পর্বে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে।

গতি, দক্ষতা এবং গোল করার ক্ষমতা দিয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে নিয়মিত সমস্যায় ফেলছেন তিনি। ব্রাজিলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু এখন তিনিই।

হাইতিকে হারিয়ে মরক্কোর নাটকীয় জয়

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে মরক্কোকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছিল হাইতি। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে আফ্রিকার দলটি।

পরে আশরাফ হাকিমি সমতা ফেরালেও প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবার এগিয়ে যায় হাইতি। তবে ইসমাইল সাইবারির গোলে বিরতির আগে সমতায় ফেরে মরক্কো।

দ্বিতীয়ার্ধে রাহিমি ও ইয়াসিনের দুটি গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মরক্কো। সেই জয়ে নকআউট পর্বের টিকিটও পেয়ে যায় তারা।

প্রতিপক্ষের জন্য সতর্কবার্তা

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল শুধু জয় পায়নি, নিজেদের শক্তিরও জানান দিয়েছে। নেইমারের প্রত্যাবর্তন, ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ফর্ম এবং আক্রমণভাগের ধারালো ফুটবল নকআউট পর্বের আগে প্রতিপক্ষদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।

বিশ্বকাপের শুরুতে যে দলটিকে নিয়ে প্রশ্ন ছিল, গ্রুপ পর্ব শেষে সেই ব্রাজিলকেই আবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য