Homeজাতীয়সবজির বাজার চড়া, বাড়তি চালের দাম

সবজির বাজার চড়া, বাড়তি চালের দাম

রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম চড়া। এর সঙ্গে বেড়েছে চালের দামও।ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 

বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য মাসের বাজারের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজারে এলেই বাজেটের সঙ্গে বাস্তবতার বড় ব্যবধান চোখে পড়ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, ফার্মগেট ও মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের মান ও জাতভেদে দাম ৬০ থেকে ৯০ টাকা কেজি।হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা হলেও দেশি শসার কেজি ১০০ টাকার বেশি।

এ ছাড়া গাজর ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ থেকে বাজার ভেদে ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা এবং সজনের ডাঁটা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকেও বর্ষার প্রতিফলন নেই।  শাকের বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি। কলমি শাকের আঁটি ১০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা এবং কচুশাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। দেশি চিকন চালের কেজি ৮৫ টাকা, মাঝারি মানের চিকন চাল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, পাইজাম চাল ৬০ টাকা এবং গুটি চাল ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায় বাজার করতে আসা একটি কারখানার শ্রমিক আরজুল্লা বলেন, চালের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। আগে যে পরিমাণ চাল কিনতাম, এখন সেটা পারছি না। কম কিনলেও কোনটা কিনব বুঝতে পারছি না। সব ধরনের চালেরই দাম বেশি।

মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা, সোনালি ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড সোনালি ৩০০ টাকা, ডিমপাড়া লেয়ার ৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬২৫ থেকে ৬৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  

রাজধানীর অধিকাংশ নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখার জন্য সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ বাজারেই দৃশ্যমান কোনো মূল্যতালিকা নেই। ফলে ক্রেতাদের পণ্যের প্রকৃত দাম যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পণ্য বাজারভেদে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হলেও তা তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। 

ক্রেতাদের অভিযোগ, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং বাজার মনিটরিংয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন।

মিরপুর-২ এলাকার ক্রেতা অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম বলেন, দেশি ও সোনালি-দুই ধরনের মুরগিরই দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে দেশি মুরগি ৬০০ টাকার আশপাশে ছিল, এখন ৬৪০ থেকে ৬৬০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। সোনালির দামও বেড়েছে। সবজির দামও বেশি। বাজারে আসতে এখন পকেটে বাড়তি টাকা নিয়ে বের হতে হয়।

তিনি বলেন, কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে পণ্য কয়েকবার হাতবদল হয়। এ কারণেই দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যায় বলে মনে করি।

মাছের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। কাঁচকি মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, বাইন ৮০০ টাকা, এক কেজির নিচের রুই ও কাতলা ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের রুই-কাতলা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া সিলভার কার্প ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা, গ্রাস কার্প ২০০ টাকা, কাতলা ৩৩০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৪০০ টাকা, আইড় ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, সুরমা ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং দেশি কই ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের বাজারেও উচ্চ দাম বজায় রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট সাদা চিংড়ি ১ হাজার টাকা, মাঝারি গলদা ৮০০ টাকা এবং বড় সাদা চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বকরির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজের কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।  দেশি রসুনের দাম মানভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং আমদানি করা বড় রসুন ১৮০ টাকা কেজি। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে বাজারে আলুর দাম কিছুটা বেড়ে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, বর্ষাকাল, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। 

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ফলে সংসারের খরচ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য