Homeআন্তর্জাতিকদোহায় আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
দোহায় আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা

  • দোহায় বৈঠক হবে না বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
  • হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে অনড় অবস্থান ইরানের।
  • জব্দ থাকা তহবিল ফেরত পাচ্ছে তেহরান।

সমঝোতা চুক্তির পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দল গতকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে। তবে তেহরান বলছে, কাতারের কাছ থেকে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আলোচনা করতে আলোচক দল দোহা গেছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো বৈঠক নির্ধারিত নেই। এর আগে গত সপ্তাহে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় নাজুক অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে পাঠাচ্ছেন। অন্যদিকে ইরান তাদের একটি কারিগরি প্রতিনিধিদল কাতারে পাঠালেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এর সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরের কোনো সম্পর্ক নেই।

দুই পক্ষ আদৌ বৈঠকে বসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া এই মতবিরোধ গত ১৭ জুনের চুক্তির নাজুক দিকটিকে সামনে এনেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত করা এই সংঘাত থামানোর লক্ষ্যেই চুক্তিটি হয়েছিল। আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে যা ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে অন্তত ৬০ দিন সময় নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কিন্তু সেই অগ্রগতি থমকে গেছে, যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, মঙ্গলবার দোহায় একটি বৈঠক হবে। তবে সুইজারল্যান্ডে ইরান ও মার্কিন দলের মধ্যকার আগের কারিগরি আলোচনার মতো এটি হবে না। এবারের মূল ফোকাস থাকবে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং উত্তেজনা প্রশমনের ওপর।

সফর পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত আরেক কর্মকর্তা জানান, বুধবার কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কারিগরি দলগুলো।

ওয়াশিংটনে অনিশ্চয়তা

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘দোহায় এই বৈঠকটি হয়তো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, আবার না–ও হতে পারে। আমরা তা দেখতে পাব।’

প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে অংশীদারত্বে থাকা হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করে ইরান আলোচনার টেবিলে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং নির্ধারিত পথের বাইরে যাওয়া জাহাজগুলোর চলাচলে বাধা দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরানও গত রোববার ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

সোমবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ইরান পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে ব্রিফ করেন স্টিভ উইটকফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য চাক শুমার একে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন।

ইরানের জব্দ তহবিল মুক্তি

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার বলেছেন, কাতারে জব্দ ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদের মধ্যে ৬০০ কোটি ডলার ছাড়া হবে এবং তা ইরানে ফেরত আসবে।

ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়সংবলিত এই সমঝোতা স্মারককে ইরানের জনগণের জন্য বড় বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সোমবার বলেছেন, তিনি উত্তেজনা প্রশমনে ওমানের সঙ্গে কাজ করছেন এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।

তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এর জবাবে বলেন, ১৪ দফার পরিকল্পনা অনুযায়ী মাইন অপসারণের কাজ শুধু ইরানই করবে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য