Homeঅপরাধচলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে আয়কর আইনজীবীর চোখ নষ্ট

ক্ষোভে ফুঁসছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে আয়কর আইনজীবীর চোখ নষ্ট

চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক আয়কর আইনজীবী তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। গুরুতর আহত ওই আইনজীবীর নাম শ্যামল চন্দ্র দাস। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত চোখে আর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর এলাকায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয়দের পোস্টের মাধ্যমে বুধবার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

পরিবার ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, জরুরি একটি কাজ শেষে ঢাকায় থেকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিরছিলেন শ্যামল চন্দ্র দাস। ট্রেনের একটি বগিতে তিনি সহকর্মী ও জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হকের পাশে বসেছিলেন। রাত দেড়টার দিকে ট্রেনটি তালশহর অতিক্রম করার সময় বাইরে থেকে ছোড়া একটি পাথর সরাসরি এসে আঘাত করে তাঁর ডান চোখে।

হঠাৎ আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং চোখ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পৌঁছালে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার তাঁর চোখে অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার আশা দেখাতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে চোখটি রাখা হয়েছে, কিন্তু কার্যত সেটি আর কাজ করবে না।

শ্যামল চন্দ্র দাসের ভাতিজা তনয় চন্দ্র দাস বলেন, চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ডান চোখে আর দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে তিনি ঢাকায় স্বজনদের বাসায় অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

নিজেও ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাঁর জীবন বদলে গেছে। যারা বিনোদন বা দুষ্টুমি করে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হক। তিনি বলেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। একটি মানুষের জীবন, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। শ্যামলের মতো একজন পেশাজীবী স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া রেলপথের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব কম দেখা যায়।

এ বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং ঘটনাটি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলপথে এমন অপরাধ বন্ধে নজরদারি বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা এবং দ্রুত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য