চলতি জুনেই বাংলাদেশকে ১৫০ কোটি ডলারের (১৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) বাজেট সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাড়তি জ্বালানি ও সার আমদানি ব্যয়ের চাপ সামলাতে এ সহায়তা দিচ্ছে সংস্থাটি। এ সহায়তা সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন ও অর্থব্যবস্থার জন্য অনেকটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।
বিশ্বব্যাংক ও অর্থ বিভাগ বলছে, মোট সহায়তার মধ্যে প্রায় ৮০ কোটি ডলার বিদ্যমান প্রকল্প ঋণের অংশ ধরে বাজেট সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ৩০ কোটি ডলার খাদ্যনিরাপত্তা ও সার আমদানি এবং ৪০ কোটি ডলার ব্যাংকিং খাত সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করা হবে। এ আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বাড়তি জ্বালানি ও সার আমদানি ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ২৬১ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। এ পরিস্থিতিতে সরকার বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে জরুরি বাজেট সহায়তা চেয়েছিল, যা সংস্থাটি দিতে সম্মত হয়েছে। এজন্য অবশ্য ব্যাংক খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চলমান সংস্কার সময়মতো শেষ করতে হবে সরকারকে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায়ে আরও মনোযোগী হতে হবে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর প্রভাব এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ঋণ বিতরণের সমস্যা রয়েছে। কিছু বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ব্যাংক খাত থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলেও তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের মতে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে, আমানতকারীদের সুরক্ষা জোরদার করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।


