চলতি সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন গড়ে হাজারের বেশি রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। প্রতিদিন মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এডিস মশাবাহিত এ রোগে। এ মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য ও কীটতত্ত্ববিদেরা। তাঁদের কথা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টা প্রায় নেই বললেই চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে শুধু এ মাসে নয়, অক্টোবর এবং এর পরের মাসেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে।
গতকাল পর্যন্ত এ মাসের প্রথম পাঁচ দিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ১৮৬। আর এই পাঁচ দিনে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৬ জন। মাত্র পাঁচ দিনে ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু এ বছরের আর কোনো মাসে হয়নি।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ গত শুক্রবার থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৯৮৮ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৩২। আর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১১৩ জনের।
কীটতত্ববিদ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তৌহিদউদ্দিন আহমেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেছে। একে নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের কোনো চেষ্টা ও আন্তরিকতা—কোনোটাই দেখছি না। এবার পরিস্থিতি অনেক জটিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এ বছর মে মাসের পর থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুন মাসে আগের মাসের চেয়ে রোগী বাড়ে তিন গুণ। পরবর্তী প্রতি মাসে আগের মাসের চেয়ে দ্বিগুণ রোগী বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যু।
সরকারি স্তরে ব্যবস্থাপনার অভাব, থেমে থেমে বৃষ্টি, সেই সঙ্গে গরম—এসব মিলে এডিস মশার বংশবিস্তার এবং সেই সঙ্গে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রবণতা অনুযায়ী এ মাসে শুধু নয়, আগামী অক্টোবর বা এর পরও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। কারণ, চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি, তেমনি একে নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো তৎপরতা নেই।
দেশে ২০০০ সাল থেকে নতুন করে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু ভয়ানক রূপ নেয়। ওই বছর আগের ২৩ বছরের চেয়ে বেশি হয় ডেঙ্গু রোগী এবং মৃত্যুও বেশি ঘটে ডেঙ্গুতে।


