ঢাকার আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়ায় হাজি হযরত আলীর মালিকানাধীন একটি চার তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ৫৭ নম্বর কক্ষ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। মৃত পুরুষের গলা গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়ায় ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ।
মৃতরা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বড় মাগুড়া পাকপাড়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে নাজমা আক্তার (৩৫) এবং তাঁর স্বামী নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার আলমগীর হোসেন (৪৫)। নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় সুইং হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। আলমগীর আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে ভাসমান পান-সিগারেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দম্পতির সঙ্গে নবজাতক সন্তানেরও লাশ মিলেছে একই কক্ষ থেকে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই কক্ষের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ থাকত। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়েই তাঁরা বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে লাশগুলো উদ্ধার করে। গতকাল ভোরে সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
নাজমা আক্তারের বোন শাপলা বেগম একই কারখানায় কাজ করতেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে কারখানা ছুটির পর সর্বশেষ বোনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। এরপর ফোন করলে বন্ধ পান। শুক্র ও শনিবার নাজমা কাজে না যাওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শারীরিক জটিলতার কারণেই হয়তো বোন কাজে যাননি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে নাজমার গর্ভপাত হয়ে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সি ভ্রুণ বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের আলামত ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুটি লাশই ফুলে গিয়েছিল এবং মাত্র এক রাতে এমন দুর্গন্ধ ছড়ানো সম্ভব নয়, ফলে আরও আগে মৃত্যু ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আশপাশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ, পাশাপাশি একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


