দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নামে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের জালে জড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। বিতর্কিত এই অর্থায়ন প্যাকেজের দ্বিতীয় ধাপে আরো ১০টি ব্যাংককে যুক্ত করে ৪১ হাজার কোটি টাকার বিপুল ঋণের বোঝা চাপানোর প্রক্রিয়ায় চুক্তি সই করা হয়েছে।
সম্প্রতি মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত হওয়া ১০টি ব্যাংক হলো—অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক। এর আগে গত ২০ আগস্ট প্রথম ধাপে সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংককে এই চুক্তিতে বাধ্য করা হয়। এর মাধ্যমে মোট ১৭টি ব্যাংককে এই ঝুঁকিভিত্তিক ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় নামানো হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার এই প্রাক-অর্থায়ন ও পুনরর্থায়ন প্যাকেজের বড় একটি অংশই আসছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন থেকে। এর মধ্যে সংগৃহীত ৪১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের নামে ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষিতে ১০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, উত্তরবঙ্গের প্রজেক্টে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানি খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা জোগান দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমানোর দোহাই দিয়ে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যকে এভাবে কৃত্রিম উপায়ে বাজারে ঢালার পরিণতি হতে পারে মারাত্মক। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতের সঠিক তদারকি ছাড়া ঢালাও ঋণ বিতরণ ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকটকে আরো তীব্র করবে এবং দিনশেষে ঋণের এই বিশাল বোঝা সাধারণ জনগণের ওপরই এসে পড়বে।


