ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩২ ঘণ্টা ধরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই যানজট স্থায়ী হয়। এরপর পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে থাকে।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে এই যানজটে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। দাউদকান্দিতে যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেছেন আমিরুন্নেছা নামের এক নারী। এ ছাড়া বিদেশগামী যাত্রীরাও চরম বিপাকে পড়েন যানজটের কারণে। অনেকেই ফ্লাইট মিস করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজে সংস্কারকাজের কারণে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের একটি অংশ বন্ধ রাখা হয়। ফলে যানবাহনের চাপ বেড়ে গিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
সড়ক বিভাগ জানায়, আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের একটি অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল।
দাউদকান্দি ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকে একটি লেন বন্ধ রেখে সংস্কারকাজ শুরু হলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। শুক্রবার রাত থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।গতকাল সকালে কুমিল্লার চান্দিনা, দাউদকান্দি, গৌরীপুর, মেঘনা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
তীব্র যানজটে আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেছেন হৃদরোগে আক্রান্ত আমিরুন্নেছা। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে অসুস্থ হওয়ার পর স্বজনরা তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১১টার দিকে দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর পর প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকে যায় অ্যাম্বুলেন্সটি। চার ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে থাকার পর রাত ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান আমিরুন্নেছা। তাঁর স্বজন আকরাম হোসেন বিষয়টি জানিয়েছেন।
দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা স্টার লাইন বাসের চালক ইয়াহিয়া জানান, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা পড়ে বিপাকে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণের জাঙ্গালিয়ার বাসিন্দা কাতারপ্রবাসী আবু সুফিয়ান জনি বলেন, ‘রাত ৩টায় বাসা থেকে রওনা দিয়েছিলাম। আমার ফ্লাইট ছিল সকাল ১১টায়। হাতে যথেষ্ট সময় রেখেই বের হয়েছিলাম। কিন্তু পথে ভয়াবহ যানজটে আটকে পড়ি। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারিনি, আমার ফ্লাইট মিস হয়ে যায়।’
সৌদি আরবগামী যাত্রী দাউদকান্দির কল্যাপুর গ্রামের হাছান আলী বলেন, ‘আজ (শনিবার) সকাল ৬টায় ফ্লাইট ছিল। শুক্রবার রাত ৯টায় রওনা দিয়েও যানজটে পড়ে আমি ফ্লাইট মিস করেছি। মহাসড়কে ব্রিজ মেরামত হবে, তা এক সপ্তাহ আগে জানানো উচিত ছিল। এটা কেমন দায়িত্বহীন কাজ!’
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি প্রেম দাস রায় জানান, দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজ এলাকায় সড়ক সংস্কার। যানজট নিরসনে শুক্রবার রাত থেকে হাইওয়ে পুলিশের ছয়টি টিম টানা কাজ করেছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে সংস্কার করা লেনটি পুনরায় চালু করা হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে থাকে। বিকেল ৫টার দিকে কুমিল্লার অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


