Homeঅর্থনীতিনতুন পে স্কেল চূড়ান্ত যেকোনো সময় ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত যেকোনো সময় ঘোষণা

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এরই মধ্যে পে স্কেলের খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করে রেখেছে সচিব কমিটি।

দীর্ঘ ১১ বছর নতুন কোনো বেতন কাঠামো না থাকায় দেশের প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন মুখ্য সচিব। তিনি বলেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করাটা সাধারণ জনগণের জন্য কিছুটা কষ্টকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান সমন্বয়ের স্বার্থে এটি জরুরি হয়ে পড়েছে।

দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এ বি এম আবদুস সাত্তার বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতি।

এই সংকট থেকে উত্তরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশে বিরাজমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বিগত সরকারের আমলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না রাখাকে দায়ী করেন তিনি। সংকট কাটাতে রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান মুখ্য সচিব। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদসচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি নবম পে স্কেলের প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে চলতি সপ্তাহেই এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন না বাড়িয়ে উচ্চ গ্রেডের চেয়ে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আনুপাতিক হারে বেশি বাড়ানোর পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে।

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন বাড়ানো হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর করা হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে এর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো পূর্ণ বাস্তবায়ন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পে স্কেল কত ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

নতুন এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার পথে বিচার বিভাগ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দেওয়ায় তা নিরসনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক পার হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির কারণে নতুন পে স্কেলের দাবি জোরালো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। এখন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই পে স্কেল বাস্তবায়নের দিনক্ষণ ও কাঠামো স্পষ্ট হবে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য