রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার এ নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন।
মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সচিব বলেন, অলি আহমদের দুটি ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মনোনয়নপত্র পেয়েছে ইসি। নির্বাচনী কর্তা মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করে তাঁদের দুজনকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। আগামী ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়।
আগস্টের মধ্যে দুই বৈধ প্রার্থীর কেউ তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে ’৯১ সালের পর অর্থাৎ ৩৫ বছর পর আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি। সেই সুবাদে দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় দুই প্রার্থীর প্রস্তাবক/সমর্থকসহ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি ও ঢাকা-১৬ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন বলেন, ‘অলি আহমদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হবে না। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছি। আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। বিষয়টি আরো সুন্দর হতো, যদি সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে তাঁরা তা পারবেন না। আমরা মনে করি, এটা স্বাধীন ভোটাধিকারের পথে বড় ধরনের অন্তরায়। আমরা চাই যেকোনো মূল্যে এই ধারাটি সংশোধন করতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বড় অন্তরায় ৭০ অনুচ্ছেদ—জামায়াত জোটের এমন দাবি প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী পথ চলতে হবে। সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য সংসদ থেকে সংশোধন করতে হবে। এর বাইরে না। এ বিষয়ে রাস্তাঘাটে বলে লাভ নেই।’
নজর আটজন স্বতন্ত্র এমপির দিকে : এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির বা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষের সংসদ সদস্য (এমপি) বা ভোটার ২৪৭ জন। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন বিএনপির মিত্র তিন দল গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) তিন ভোটার। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ভোটার ৯০ জন। এর বাইরে ৯ সদস্যের মধ্যে আটজন স্বতন্ত্র এবং একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। স্বতস্ত্র আটজন প্রায় সবাই একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য নয়। তাঁরা স্বাধীনভাবে যাঁকে পছন্দ তাঁকেই ভোট দিতে পারবেন। সে কারণে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকলেও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা কাকে ভোট দিচ্ছেন তা জানতে আগ্রহী অনেকেই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ভোট কার পক্ষে যাবে সেটিও জানার আগ্রহের বাইরে নয়।


