ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে অবশেষে গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র নিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র লেখেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায় নিয়েছি এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ঘুরিয়ে নিইনি।’ তবে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে আন্দোলন সাফল্যের ‘কেবল শুরু’ বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর আসার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘এটি কেবল প্রথম উইকেটের পতন হলো।আমরা এখানেই থেমে যাব না। এটি তো কেবল শুরু। গত ৩৬ দিন ধরে যাঁরা এখানে অবস্থান করছেন, সেই সব শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবককে আমি সালাম জানাই।’ এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরের প্রবেশদ্বারে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ সারি ও ভিড় দেখা গেছে।
তীব্র ভিড় ঠেলে সাধারণ মানুষ যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। আন্দোলনস্থলের ভেতরে অবিরত স্লোগান চলছে। অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের একাংশ স্লোগান দেয়, সংগ্রাম এখনো জারি আছে, এবার লক্ষ্য ই-২০। এদিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর শনিবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দুপুর ২টার দিকে যন্তর মন্তর আন্দোলনস্থল থেকে সংসদ মার্গমুখী সড়কে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে লেখা একটি চিঠি এক্সে পোস্ট করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে যেন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার কাজে তাদের সময় ব্যয় করতে পারে—এসব বিষয় বিবেচনা করে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’
মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ঘিরে শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন করে আসছেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সারা দেশ থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানান।
গত শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। সিজেপি তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে। এগুলো হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।
গত শুক্রবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি প্রধান দাবিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেগুলো হলো—বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সিজেপির নেতারা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে বিজেপির কয়েকটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সরকার কোনোভাবেই মানবে না। গতকাল শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ২০২১ সালে শিক্ষামন্ত্রীর পদে আসা ধর্মেন্দ্র প্রধানের নিজের রাজনৈতিক জীবনের যাত্রাও শুরু হয়েছিল আশির দশকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।


