সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ কনস্টেবল সামসুল হক। তখনো তিনি জানতেন না নিহত শিশু তার ছেলে। সন্তানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় সান্ত্বনা দিতে গিয়ে সহকর্মী ও স্থানীয়দের চোখও ভিজে ওঠে। গতকাল সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু সাকিবুল হাসান তুহিন (১০) সদর মডেল থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল সামসুল হকের ছেলে এবং ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী জেলা নেত্রকোনায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাইটাল এলাকার বাসা থেকে তুহিন সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল এলাকায় যাচ্ছিল। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের গাড়িচালক সামছুল হক তখনো জানতেন না নিহত শিশুর পরিচয়। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তিনিও কাছে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ দেখতে পান। নিথর দেহটি দেখে পাথরের মতো হয়ে যান তিনি। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সামছুল হক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমা অঞ্জলি বলেন, ছেলেটি খুবই মেধাবী ছিল। সবাই তাকে আদর-স্নেহ করত। তার মৃত্যুতে শিক্ষকসহ সবাই মর্মাহত। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, সামছুল হক পুলিশের একজন দায়িত্বশীল সদস্য। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান শিশুটি তার নিজের ছেলে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বেলা ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কের পাকুন্দিয়ার চিলাকাড়া মৌলভীবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাস চালক নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে দুটি গাড়িই রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


