রাজধানীর সবুজবাগ ও হাজারীবাগে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজন খুন হয়েছেন। সবুজবাগে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইব্রাহিম পলাশ (৩৬) নামে এক ওয়ার্ড বিএনপি কর্মী খুন হয়েছেন। হাজারীবাগে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন সাগর হোসেন বুলেট (২৮) নামে এক পরিবহন সহকারী। মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল ভোরের মধ্যে এ দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সবুজবাগের রাজারবাগ বাজার পানির পাম্প এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন ইব্রাহিম পলাশ। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে একই এলাকার রয়েল, সবুজ, নাঈমসহ ১০-১২ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলায় পলাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয় এবং তাঁর দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই রাত সাড়ে ৯টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা যায়, পলাশ পেশায় প্রাইভেট কার চালক এবং স্থানীয় ৭১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সবুজবাগের মাদারটেক এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুরে। পলাশের প্রতিবেশী হীরা জানান, কয়েক দিন আগে স্থানীয় একটি গ্যারাজ থেকে রিকশা চুরির ঘটনা নিয়ে অভিযুক্ত সবুজের সঙ্গে পলাশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। সেই ঘটনার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এতে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে মঙ্গলবার রাত ২টায় হাজারীবাগ পার্কসংলগ্ন শাহ আলম গলির মন্দিরের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সাগর হোসেন বুলেটকে। তাঁর মাথার বিভিন্ন অংশে গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
সাগরকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অটোরিকশাচালক ইব্রাহিম জানান, কাজ শেষে গ্যারাজে যাওয়ার সময় রক্তাক্ত অবস্থায় সাগরকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশের নির্দেশে রাত আড়াইটায় তাঁকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৫টায় তাঁর মৃত্যু হয়। সাগর হাজারীবাগের ভাগলপুর লেনের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেনের ছেলে। তিনি নির্দিষ্ট কোনো কাজ করতেন না, তবে বেশ কিছুদিন একটি গাড়িতে চালকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কাজ করছিলেন।
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক জানান, লাশ মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।


