Homeঅপরাধ৫৬ পাসপোর্টসহ ভিসা জালিয়াত চক্রের সাতজন গ্রেপ্তার

৫৬ পাসপোর্টসহ ভিসা জালিয়াত চক্রের সাতজন গ্রেপ্তার

মানব পাচার ও ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন বেলায়েত হোসেন, নাজমুল হাসান, মেহেদী হাসান, সোলাইমান সুমন, ফজলে রাব্বী, তৌহিদুর রহমান ও কাওসার হোসেন। গত সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি বিভিন্ন ধরনের সিল, একটি এম্বোস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। গতকাল এসব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বাদীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে ভিসা পাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইতালির দূতাবাস থেকে তাকে ফোন করে পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়ে অবহিত করা হয়। পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য তিনি দূতাবাসে গেলে সেখানে আসামি নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল নিজেকে পাসপোর্ট নবায়নসহ ইতালির ভিসা করে দেওয়ার কথা বলে। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নাজমুল ওই নারীকে গুলশান-১ এলাকার একটি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায় এবং সেখানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে আসামি বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা পরিশোধের পর তাকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়। এরপর ইতালিতে থাকা স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য বিমানের টিকিট কাটেন। নির্ধারিত দিনে ভুক্তভোগী সন্তানদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। তখন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে অন্য এক নারী ২৪ এপ্রিল ইতালি চলে গেছেন। এ ঘটনায় হতবাক হয়ে তিনি সিআইডির মানব পাচার শাখায় অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।  সিআইডি বলছে, চক্রটি বিদেশে যেতে আগ্রহীদের ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত। পরে কৌশলে তাদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো হতো। জব্দ করা ৫৬টি পাসপোর্ট ও ১৫৩টি সিল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভিসা জালিয়াতি ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। চক্রের মূল হোতা বেলায়েত ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই ধরনের অপরাধে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য