বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখে গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে নোয়াখালী ও কুষ্টিয়ায় পৃথক ঘটনায় দুই যুবক আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল সকালে এসব ঘটনা ঘটে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-নোয়াখালী : সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের কেশারপাড় গ্রামে আত্মহত্যা করেন মো. আলাউদ্দিন ওরফে রায়হান (২৭)। তিনি কুয়েতপ্রবাসী আবদুল বারেকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রবিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-স্পেনের বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখেন রায়হান। ভোরে বাড়ি ফিরে বাইরে খেলা দেখা ও দেরিতে ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী মারজান আক্তার মমতাজের (১৮) সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে গেলে রায়হান আত্মহত্যার হুমকি দেন। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী ফিরে এসে দেখেন, তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন। রায়হান সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন এবং পাঁচ-ছয় মাস আগে বিয়ে করেন। গতকাল তার পুনরায় সৌদি আরব যাওয়ার ভিসা এসেছিল বলে পরিবার জানিয়েছে। সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার জানান, রায়হানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় সুমন হোসেন (৩০) নামে আরেক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি কৃষিকাজ করতেন এবং আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলেন। তার পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সি দুই সন্তান রয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের ফাইনাল খেলা দেখে ভোরে বাড়ি ফেরার পর পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। পরে সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে দেখতে পান। স্থানীয় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, সুমনের আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে।


