Homeজাতীয়স্থানীয় নির্বাচনের আইনবিধিতে বড় পরিবর্তন আসছে

স্থানীয় নির্বাচনের আইনবিধিতে বড় পরিবর্তন আসছে

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনবিধিতে বড় ধরনের সংশোধনী ও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার একটি বিশেষ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগ দাখিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন ভোটে অংশ নিতে না পারেন, স্থানীয় সরকার আইনে এমন কঠোর বিধান যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে চায় কমিশন। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে কেবল বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের রাখার সুপারিশ করতে যাচ্ছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অভিযুক্তদের ওপর নিষেধাজ্ঞা

ইসি সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গৃহীত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি বা খালাস পেলে এই অযোগ্যতা থাকবে না, আর দণ্ডপ্রাপ্ত হলে আজীবন নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রার্থীর অযোগ্যতার তালিকায় যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে ইসি। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সংশোধন করে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন’ বাক্যটি যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। এই সংশোধনী অনুমোদন পেলে দেশের প্রায় সাত লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী আর স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণখেলাপি ও সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত প্রস্তাব

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এই ধারাটি স্থানীয় সরকার আইনেও যুক্ত করার সুপারিশ করবে ইসি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, যারা অন্য দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন, তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হওয়ার উপযুক্ত নন।

ঋণখেলাপির বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে ঋণখেলাপি ব্যক্তির পাশাপাশি তার জামিনদারও প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ছাড়া নির্বাচনের সময় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে সরাসরি ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখতে সংজ্ঞায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হবে। একই সাথে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল থেকে নির্বাহী বিভাগের প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে কেবল বিচার বিভাগের একজন বিচারক রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

অক্টোবরে ভোটের লক্ষ্যমাত্রা

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে এই কমিশনার জানান, পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের ৪,৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছরেই ৩,৯৮১টি পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলোর মেয়াদ ও আইনি জটিলতা শেষে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য