Homeজাতীয়চট্টগ্রামে ১১৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

চট্টগ্রামে ১১৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

চট্টগ্রামে বন্যার পানি নামতে শুরু করতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। জেলায় ১৪ হাজার ২৮১টি বসতবাড়ি, এক হাজার ১৯০ কিলোমিটার সড়ক, ১৪৫টি সেতু ও কালভার্ট এবং ২১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছদাহা, নলুয়া, বাজালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গতকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। উপজেলার ১৪৫টি ওয়ার্ড বন্যাকবলিত হয়েছিল। এর মধ্যে এখনো ১১৭টি ওয়ার্ড পানিতে প্লাবিত রয়েছে।

প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি। এসব এলাকার অনেক সড়ক এখনো পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

বাঁশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আকন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। ছনুয়া ও ফুলছড়ি এলাকায় অনেক মাটির কাঁচাঘর ছিল, যার বেশির ভাগই বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন বন্যাকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য, কোনো মানুষ যেন না খেয়ে না থাকে। পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করা হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সাদমান শহীদ বলেন, ‘চট্টগ্রামে এ বন্যায় ১৪ হাজার ২৮১টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলার এক হাজার ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪৫টি সেতু ও কালভার্ট। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ ২১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি প্রাথমিক হিসাব। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে।’ গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার। মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।’ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

বান্দরবানে বিধ্বস্ত সড়ক : বন্যা, পাহাড়ধস ও ভূমিধসে বান্দরবানের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কোথাও সড়ক ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে, কোথাও কালভার্ট ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অনেক জায়গায় পাহাড়ধসে সড়ক চাপা পড়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলা সদর থেকে দুর্গম রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় এ সংস্থার আওতায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পাকা, কাঁচা ও ইউনিয়ন সড়ক রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্তত ২১ কিলোমিটার সড়ক এবং অসংখ্য ছোট-বড় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ দেওয়ান জানান, মাঠ পর্যায়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় রয়েছে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে বান্দরবান-কেরানীহাট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বান্দরবান-রাঙামাটি-বাঙ্গালখালিয়া সংযোগ সড়ক এবং বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনো বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে গেছে তিনটি আরসিসি সেতু ও সাতটি বেইলি ব্রিজ। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সচল করতে স্বল্প মেয়াদে প্রায় সাত কোটি টাকা এবং দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই পুনর্নির্মাণে আরো প্রায় ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পাহাড়ি অবকাঠামোগুলো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে রয়েছে প্রায় ৩০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক এবং বিস্তৃত অবকাঠামো নেটওয়ার্ক। পাহাড়ি জনপদে নির্মিত পাকা, আধাপাকা ও কাঁচা রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট এবং জনসেবামূলক স্থাপনাগুলোর বড় অংশই ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য