উচ্চশিক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যৌথ অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ডুয়াল বা দ্বৈত ডিগ্রি কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি ‘জাতীয় কাঠামো’ (ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
শনিবার (২০ জুন) সকালে এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাকৃবি ও ইউজিসির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক এ. কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফুলব্রাইট স্পেশালিস্ট ও উচ্চশিক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞ ড. গ্রেস মুকুপা। তিনি বর্তমানে ইউজিসির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি বাস্তবসম্মত আন্তর্জাতিক ডুয়াল ডিগ্রি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নে কাজ করছেন।
ড. মুকুপা জানান, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি কাঠামোবদ্ধ ‘টু প্লাস টু’ মডেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী প্রথম দুই বছর বাংলাদেশে পড়াশোনা করবেন। পরবর্তী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করবেন। সফলভাবে কোর্স সমাপ্তির পর শিক্ষার্থীরা উভয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পৃথক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ওপর কোনো বিদেশি মডেল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বরং দেশের বিদ্যমান নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখেই এই টেকসই রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
আলোচনা সভায় উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ‘জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো’ অনুযায়ী অর্জিত ক্রেডিটকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কার্নেগি ইউনিট পদ্ধতি’র সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া দুই দেশের পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য, ক্রেডিট স্থানান্তর এবং শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক অর্জনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক এ. কে ফজলুল হক ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের করা সময়ের দাবি। ডুয়াল ডিগ্রি কার্যক্রম চালু হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের আরও বিস্তৃত সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
সভায় বাকৃবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং বিদেশি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


