মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল এখন পুরোদমে গ্যাস সরবরাহে প্রস্তুত থাকলেও ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সাগরে কোনো এলএনজিবাহী কার্গোই নেই। ফলে তৈরি টার্মিনাল অলস বসে থাকায় আগামী অন্তত এক সপ্তাহ সারা দেশে ভয়াবহ গ্যাসসংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক তদবিরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ছয়টি এলএনজি কার্গো আমদানির ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই মূলত এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
তদবিরের দরপত্রে কেনা কার্গোগুলোর মধ্যে আজ সোমবার একটির পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা আসছে না। উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতি ও সংকট সামাল দিতে বাধ্য হয়ে স্পট মার্কেট থেকে পাঁচটি এলএনজি কার্গো কেনার জন্য তড়িঘড়ি দরপত্র আহ্বান করেছে সরকার। এ বিষয়ে অনুমোদন দিতে আজ সোমবার সন্ধ্যায় জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ বৈঠকও ডাকা হয়েছে। পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এ প্রসঙ্গে বলেন, “সামনে বড় সংকট রয়েছে, তবে সেই সংকট কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
তদবিরে অনুমোদন ও স্পটের প্রস্তাব বাতিল
গত ২১ জুলাই থেকে টানা প্রায় এক মাস ধরে দেশে তীব্র গ্যাসসংকট চলছে। সরকারের জ্বালানি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অনিয়ম ও তদবিরের মাধ্যমে আনা কার্গো সময়মতো না আসায় দেশে কৃত্রিমভাবে এই সংকট তৈরি হয়েছে। অথচ ডিপিএমের ঝুঁকিপূর্ণ কার্গো না আসার আশঙ্কায় সংকট এড়াতে ১৭ ও ২৪ আগস্টের সরবরাহের জন্য স্পট মার্কেট থেকে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম সিঙ্গাপুরের দুটি কার্গো কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। কিন্তু গত ৬ আগস্টের মন্ত্রিসভা কমিটিতে সেই উন্মুক্ত প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে তদবিরের ছয়টি কার্গোই আগে আমদানির নির্দেশ দেওয়া হয়।
চলতি মাসের শুরুতে ‘ব্লেক কিউব’, ‘মেক্স অয়েল’ ও ‘জিং হু শিপিং’ নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুটি করে মোট ছয়টি কার্গো (প্রতিটির দাম ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা) কেনার প্রস্তাব ডিপিএম পদ্ধতিতে অনুমোদন করানো হয়। এর মধ্যে আজ জিং হু শিপিংয়ের প্রথম কার্গোটির আসার কথা ছিল। আগামী ২৩ আগস্ট যে কার্গোটি আসার কথা সেটিও আসবে না বলে জানা গেছে।
অনুমোদিত সেই কার্গোগুলো বাতিল হওয়ার মুখে গতকাল রোববার বিকেলে তড়িঘড়ি স্পট মার্কেট থেকে পাঁচটি নতুন এলএনজি কার্গো কেনার দরপত্র আহ্বান করেছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। আগামী ২৩, ২৬, ২৯ আগস্ট এবং ১ ও ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এগুলো সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
সরবরাহ ও লোডশেডিংয়ের বর্তমান চিত্র
কার্গো ঘাটতির কারণে টার্মিনালে থাকা গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে রোববার সারা দেশে পেট্রোবাংলা ২২৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করেছে, যা গত শনিবারের (২৪০ কোটি ঘনফুট) চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম। মোট সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে সর্বোচ্চ ৯৬ কোটি ঘনফুট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া শিল্প খাতে ৯০ কোটি এবং সার উৎপাদনে দেওয়া হচ্ছে ২০ কোটি ঘনফুট।
তবে বৃষ্টির কারণে তাপপ্রবাহ কিছুটা কমায় বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে সাময়িক স্বস্তি রয়েছে। রোববার বিকেলে সারা দেশে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের লোডশেডিং ছিল মাত্র ৩৬৫ মেগাওয়াট। তবে এলএনজি কার্গো পৌঁছানো বিলম্বিত হলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় হাহাকার আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের।


