Homeজাতীয়গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন

লোডশেডিং সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন

তীব্র গরমের মধ্যে দেশে একসঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের জোগান আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা, গণপরিবহন থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থালি, সবখানেই তৈরি হয়েছে স্থবিরতা। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, যার ধাক্কায় দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এক রাতেই সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, আবার কোথাও দিনে ২০ থেকে ২৫ বার লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের জায়গায় এখন মিলছে মাত্র ৬৮ কোটি ঘনফুট।

সংকটের মূল সূত্রপাত গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে। দুর্ঘটনাটি ঘটার পর থেকে টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে এখন প্রতিদিন সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস। মেরামত কাজ চললেও টার্মিনালটি কবে চালু হবে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পেট্রোবাংলা।

গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের পোশাক এবং স্পিনিং কারখানায় প্রয়োজনীয় ১৫ পিএসআই চাপের জায়গায় মিলছে মাত্র ২ থেকে ৩ পিএসআই। উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় সময়মতো জাহাজীকরণ সম্ভব হচ্ছে না, বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডিবিএল গ্রপ তাদের পোশাক কারখানাগুলো সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠিয়েছে। অবিলম্বে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে বিকেএমইএ ও বিটিএমএ।

গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইন। সড়কে অটোরিকশা ও বাস কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে দিনের বেলা গ্যাস না থাকা এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এদিকে বিরতিহীন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বরগুনা। পায়রা ও তালতলী বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে হলেও চরম বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগে সোমবার জেলা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে তিতাসের মূল সঞ্চালন পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পুরো জেলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তিতাসের দাবি, অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করার সময় পাইপলাইনে লিকেজ তৈরি হয়ে এই বিপত্তি ঘটেছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য