Homeআন্তর্জাতিকইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় ফের অস্থির বৈশ্বিক আর্থিক বাজার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় ফের অস্থির বৈশ্বিক আর্থিক বাজার

হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়া উত্তেজনার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক বাজারে। যুদ্ধ বন্ধে গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত ভেস্তে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঋণ ও বন্ড বাজার হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বাজারকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ভেস্তে গেল সমঝোতা, লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

এমওইউ সমঝোতায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া, মার্কিন নৌ-অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তির পথে আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে দুই দেশের নতুন করে শুরু হওয়া হামলা-পাল্টাহামলায় সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে।

এর ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম একদিনেই প্রায় ৭ শতাংশ লাফিয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছে গেছে। জ্বালানি তেল ও আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির পর পরোক্ষভাবে অন্যান্য পণ্যসামগ্রীর দাম বেড়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

মার্কিন ট্রেজারি বাজারে ধস, ঋণের ব্যয় আকাশচুম্বী

মূল্যস্ফীতি ফের মাথাচাড়া দেওয়ায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও দীর্ঘ সময় ধরে উঁচুতে ধরে রাখতে পারে- এমন আশঙ্কায় অস্থির হয়ে উঠেছে প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন (৩০ লাখ কোটি) ডলার আকারের মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বাজার। বন্ড বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়ে ৪.৭১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

ট্রেজারি বন্ডের এই উচ্চ সুদহারের প্রভাবে বাণিজ্যিক ও গৃহঋণের খরচ দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদি স্থির সুদের আবাসন ঋণের গড় হার বেড়ে প্রায় ৬.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ ক্রেতা ও আবাসন খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

নতুন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ ও সুদের পূর্বাভাস

চলতি বছরের মে মাসে জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফেডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কেভিন ওয়ার্শ। তাঁর নেতৃত্বে ফেডের আগামী নীতিগত কৌশল কী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলতি সপ্তাহের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ সামাল দিতে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিগত সুদের হার আরও বাড়াতে পারে।

শেয়ারবাজারে বড় ধস

টানটান অর্থনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে মার্কিন পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ডাও জোন্স সূচক প্রায় ১ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১.২ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২.১৫ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গেছে।

প্রযুক্তি খাতের জায়ান্ট অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ এবং প্রত্যাশার চেয়ে কম প্রান্তিক মুনাফা হওয়ায় ইভিনির্মাণ প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারদর ১৪.৫ শতাংশের বেশি কমেছে, যা এক বছরের মধ্যে তাঁদের অন্যতম বড় একদিনের দরপতন। জুনের শুরুর তুলনায় সামগ্রিকভাবে নাসডাক সূচক প্রায় ৭ শতাংশের বেশি সংকুচিত হয়েছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে, যা সমগ্র বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এক দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য