জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যথাযথভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করার অভিযোগে বাংলাদেশী পণ্যে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশী রফতানি পণ্যের ওপর কার্যকর মোট শুল্ক গিয়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৫ শতাংশে। আগে বাংলাদেশী পণ্যে গড়ে ১৫-১৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। এর সঙ্গে সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক যোগ হয়েছে।
নতুন শুল্কে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন হবে না বলে মনে করছেন রফতানিকারকরা। কারণ এতদিন সেকশন ১২২-এর আওতায় থাকা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক ছিল, তার পরিবর্তে এখন একই হারে সেকশন ৩০১-এর শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শুল্কের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলোর পণ্য আমদানিতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপে তৎপরতা শুরু করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করা হয়। বিশ্বের ৫৭টি দেশের ওপর বসানো হয় বিভিন্ন হারে এ শুল্ক। শুরুতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং একপর্যায়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেডের (এআরটি) পর শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ১৯ শতাংশ শুল্ক পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেন।
সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন। আইন অনুযায়ী, এ শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন বহাল রাখা যায়। সে মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। আর এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে পরিচালিত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) তদন্ত।
পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ইউএসটিআর গত ১২ মার্চ তদন্ত শুরু করে। জনমত, প্রকাশ্য শুনানি, সংশ্লিষ্ট সরকারের মতামত এবং উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে ২ জুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ইউএসটিআর। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্ট্রারের এক নোটিসে গত বৃহস্পতিবার নতুন এ শুল্ক ঘোষণা করা হয়, যা ওয়াশিংটন সময় ২৪ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পথে থাকা পণ্য ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এ শুল্কহার থেকে অব্যাহতি পাবে।
নতুন এ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে ইউএসটিআরের নোটিসে কিছু পণ্যকে নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কয়েক ধরনের খাদ্যপণ্য এবং আগে থেকেই সেকশন ২৩২-এর আওতায় থাকা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামাসহ কয়েকটি পণ্যের ওপর এ অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত পূরণকারী পণ্যও এ শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
এদিকে নতুন শুল্ক কার্যকরের পরপরই বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বহাল থাকার দাবি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন আরোপিত শুল্কহারের ফলে বাংলাদেশের কার্যকর শুল্ক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ১২টার পর সেকশন ১২২-এর আওতায় আগে আরোপিত শুল্ক আর কার্যকর থাকবে না। এ শুল্কটি ছিল ব্যালান্স অব পেমেন্টসের তারতম্যের কারণে। কোনো একটি দেশের রফতানির বিপরীতে সাময়িক ব্যবস্থা নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের আইন তাদের প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে। ওই ১৫০ দিনের মেয়াদ শুক্রবার শেষ। এরপর আগের শুল্ক আর থাকবে না, কার্যকর হবে নতুন করে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক। বাস্তবে শুল্কের পরিমাণ একই থাকবে, শুধু ভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় কার্যকর হবে। সে কারণে বাংলাদেশের শুল্ক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৮৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৭টি দেশের একটি, যাদের জন্য সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে। একই সঙ্গে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা আরো জোরালো হবে বলে মনে করছে সরকার।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় ইউএসটিআরের তদন্তের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সেকশন ১২২-এর আওতায় আগে কার্যকর থাকা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলো।
এছাড়া ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছরের একটি ট্যারিফ রেট কোটা (টিআরকিউ) চালুর বিষয় বিবেচনা করছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফ করা হতে পারে। সরকার মনে করছে, এটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের রফতানিতে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা সৃষ্টি হবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রমমান রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং রফতানিমুখী খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।
রফতানিকারকরা বলছেন, নতুন ঘোষণায় বাংলাদেশের জন্য কার্যকর ট্যারিফে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে যে ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক ছিল, এখন তার জায়গায় একই হারে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। ফলে মোট কার্যকর শুল্ক প্রায় ২৫ শতাংশেই থাকছে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘নতুন ঘোষণার পর আমাদের জন্য ট্যারিফে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এতদিন সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল। সেই ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। অর্থাৎ আগের ১০ শতাংশের পরিবর্তে নতুন ১০ শতাংশ কার্যকর হয়েছে।’
প্রতিযোগী দেশগুলোর বিষয়ে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে আগে ১০ শতাংশ ছিল, এখন তা সাড়ে ১২ শতাংশ হয়েছে। সেদিক থেকে ভিয়েতনামের তুলনায় আমরা কিছুটা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারি। তবে ভারত বা কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রে এমন সুবিধা নেই। কারণ ওই দেশগুলোর ওপরও ১০ শতাংশ এবং আমাদের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।’
প্রতিযোগিতার দিক থেকে বড় কোনো ক্ষতি না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক চুক্তির পরও বাড়তি সুবিধা না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি এবং প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক বলেন, ‘প্রতিযোগিতার দিক থেকে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ প্রায় সবার ক্ষেত্রেই শুল্ক বেড়েছে। কিন্তু এআরটি করার পরও যদি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা না পাই, সেটাই হতাশার জায়গা।’
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান হা-মীম গ্রুপ। বাংলাদেশী পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকরের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, ‘নতুন ঘোষণার প্রভাব সুনির্দিষ্ট করে বলতে আরো সময় প্রয়োজন। ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রকৃত প্রভাব বলা সম্ভব হবে।’
ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে অবশ্য হতাশাও রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শীর্ষ পোশাক রফতানিকারক জানান, প্রশ্নটা প্রতিযোগিতার নয়, প্রশ্নটা ন্যায্যতার। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি করেছে। তার পরও আমাদের ওপর একই ধরনের শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সেটি কতটা যৌক্তিক, সেটাই প্রশ্ন। তাছাড়া জোরপূর্বক শ্রমের সংজ্ঞা এবং বাংলাদেশকে কী ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেটিও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। যদি কোনো দেশের কাঁচামালের উৎসে জোরপূর্বক শ্রম থাকে, তাহলে তার দায় পুরো একটি দেশ বা পুরো শিল্প খাত কেন বহন করবে—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ভারত, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ ১৭টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ অধিকাংশ বাণিজ্য অংশীদারের ক্ষেত্রে শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এমএফএন শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বড় ধরনের চাপে না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংলাপ, শ্রমমান বাস্তবায়ন, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা এবং কাঁচামালের উৎসসংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করার ওপরই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে। একই সঙ্গে ইউএসটিআর প্রস্তাবিত ট্যারিফ রেট কোটা (টিআরকিউ) কার্যকর হলে তা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির জন্য একটি নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ থাকলে তা একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বাজারে চাহিদা কমিয়ে দেয়, যা বিবেচনায় বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ রয়েই যাচ্ছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পেনাল্টি ট্যারিফ আরোপ করেছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি এবং তা রফতানিতে ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিষয়টি দুটি কারণে অপ্রত্যাশিত। প্রথমত, প্রায় দেড় মাস আগে ইউএসটিআরের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল—বাংলাদেশের আইনি কাঠামো রয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নে দুর্বলতা আছে। অর্থাৎ আইনি সুরক্ষা যথেষ্ট থাকলেও প্রয়োগের ঘাটতি রয়েছে। এ দুর্বলতা দূর করা খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক। দুই দেশের মধ্যে এআরটি স্বাক্ষর হয়েছে, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এলএনজি সহযোগিতায় সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে। এসব বিবেচনায় আমরা আশা করেছিলাম বাংলাদেশ কিছুটা অগ্রাধিকার পাবে। কয়েক মাস আগে সেকশন ৩০১ তদন্তের ইঙ্গিত দেয়ার পর বিষয়টি আরো কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা উচিত ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘উচ্চ শুল্ক দীর্ঘমেয়াদে বাজারের চাহিদাকে প্রভাবিত করে। শুল্ক বাড়লে শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ব্যয়ও বাড়ে, যার প্রভাব চাহিদার ওপর পড়ে। এ প্রবণতার লক্ষণ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেখা যাচ্ছে।’
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে ৩৮৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের পণ্য। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ পণ্য আমদানি করেছে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারের।


