ইউরোপের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে বিমানের জন্য ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। ২০৩১ সাল থেকে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হবে। এয়ারবাস ও বিমানের কর্মকর্তারা জানান, কম্পানিটি সম্প্রতি বিমানের টেকনো-ফিন্যান্স কমিটিতে একটি নতুন প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ ও ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি জেট। যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চলমান থাকতেই এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এতে বিশ্বের দুই প্রধান বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং ও এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বিমানের বহরে পাশাপাশি চলবে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি, অন্যদিকে ইউরোপের সঙ্গে পোশাক খাতের স্বার্থ রক্ষা—এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ‘ব্যালান্সড ডিপ্লোম্যাসির’ প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের লক্ষ্যে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা) চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় বিমান ১৪টি উড়োজাহাজ কিনবে, যার মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। এর পরই এয়ারবাস তাদের প্রস্তাব সংশোধন করে। তবে দুটি সংস্থার উড়োজাহাজ ক্রয়ে যে আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাসসকে বলেন, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় ১০টি উড়োজাহাজ কেনা হবে এবং ২০৩১ সাল থেকে সেগুলো সরবরাহ শুরু হবে। দাম ও অন্যান্য শর্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে। সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্যিক প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন সক্ষমতা বিবেচনায় রেখেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক অবস্থানে রাখতে এবং বিমানকে একটি আধুনিক মিশ্র-ফ্লিট এয়ারলাইনসে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য।
জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে কেনা ১০টি বোয়িং উড়োজাহাজের বকেয়া অর্থ এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেনি রাষ্ট্রীয় পাতাকবাহী এয়ারলাইনসটি। এর মধ্যেই সংস্থাটি নতুন করে ১০টি এয়ারবাস কেনার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। অথচ বর্তমানে সংস্থাটির মূল আয়ের জায়গাগুলোতে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা। এভিয়েশন বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে বিমানের মোট আয়ের বেশির ভাগই আসে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাত থেকে। তবে তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ জাপানি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই আয়ের খাতটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে। এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, বহরে ভারসাম্য রক্ষা করতে আগে কেনা ১৪টি বোয়িংয়ের পাশাপাশি এবার ১০টি এয়ারবাস যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিন্তু দুটি পৃথক প্রস্তুতকারক সংস্থার উড়োজাহাজ যদি একই সময়ে বহরে যুক্ত হতো, তবে তা থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রী পরিবহন করে আয় বাড়ানো সম্ভব হতো। বাস্তবে উড়োজাহাজগুলো একসঙ্গে না এলেও উভয় সংস্থার পাওনা প্রায় একই সময়ে শোধ করতে হবে, যা বিমানের ওপর এক বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
বিমানের সাবেক এক পাইলট বলেন, ‘নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই রয়েছে। তবে নতুন এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত হলে পরিচালন আয়-ব্যয়ের সমীকরণ কী দাঁড়াবে এবং প্রয়োজনীয় পাইলটসহ পর্যাপ্ত জনবল আছে কি না, তা গভীরভাবে বিবেচনা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।’ যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জনের হিসাব দেখিয়েছে, তবু আয়ের মূল উৎস সংকুচিত হয়ে আসা এবং একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ নতুন উড়োজাহাজের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বিমানের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে সংশয়ে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
জানতে চাইলে এভিয়েশন বিশ্লেষক এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মূল চ্যালেঞ্জ হলো নতুন এয়ারক্রাফট এলে প্রয়োজনীয় পাইলট, কেবিন ক্রু, ইঞ্জিনিয়ার এবং রক্ষণাবেক্ষণ টুলসের ব্যবস্থা করা, যার জন্য নিবিড় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। এ ছাড়া এয়ারবাস কেনার ক্ষেত্রে প্রি-ডেলিভারি পেমেন্ট কিভাবে শোধ করা হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। উড়োজাহাজগুলো সব একসঙ্গে না এলেও বোয়িং ও এয়ারবাস—উভয় কম্পানির পেমেন্ট কিন্তু একই সঙ্গে শুরু হয়ে যাবে। তাই এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করার চেয়ে বড় বিষয় হলো সময়মতো এর রিপেমেন্ট (ঋণ পরিশোধ) নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত রেভিনিউ বা রাজস্ব আয় করা। উড়োজাহাজ কিনে বসিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিবছর যদি দুই-তিনটি করে এয়ারক্রাফট আনা হতো, তবে তা সহজেই সামলানো যেত। কিন্তু হঠাৎ করে একসঙ্গে এত উড়োজাহাজের জন্য দক্ষ পাইলট ও ক্রু পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে। এ ক্ষেত্রে সামান্য ভুল বা পরিকল্পনাগত ব্যর্থতা দেখা দিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারে।’ তিনি বলেন, বিমানের আয়ের বড় অংশ আসে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে। সরকার বিদেশি সংস্থাকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে। এতে বিমানের আয়ে বড় ধাক্কা এলে তা সামাল দিতে বিকল্প পথ কী, তা ঠিক করতে হবে।
দুই জায়ান্টের লড়াইয়ে ভারসাম্য আনার কৌশল : বিমানের বহরে জায়গা করে নিতে কয়েক বছর ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিশ্বের দুই বৃহৎ উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং ও এয়ারবাস। এই প্রতিযোগিতা কেবল বাণিজ্যিক নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও। ২০২৩ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর বাংলাদেশ সফরের সময় থেকেই এয়ারবাসের প্রচারণা দৃশ্যমানভাবে বাড়ে। এরপর একাধিকবার এয়ারবাসের প্রতিনিধিরা ঢাকা সফর করে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। সেই প্যাকেজে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রথমবারের মতো বিমান এমন একটি বহর গড়ে তুলতে যাচ্ছে, যেখানে বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় প্রতিষ্ঠানের আধুনিক উড়োজাহাজ পরিচালিত হবে। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টিই বোয়িংয়ের তৈরি।
কী থাকছে এয়ারবাসের প্রস্তাবে : সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এয়ারবাস বিমানের কাছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজের প্রস্তাব দিয়েছে। এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য তৈরি। এটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী। অন্যদিকে এ৩২১নিও স্বল্প ও মধ্যম দূরত্বের রুটে পরিচালনার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ন্যারো-বডি উড়োজাহাজগুলোর একটি। গালফ অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে এটি পরিচালন ব্যয় কমাতে সহায়ক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।সম্প্রতি এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ডেলাহায়ে ঢাকা সফর করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পরই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় আলোচনা।
কেন মিশ্র-ফ্লিট : বর্তমানে বিমানের পুরো বহরই মূলত বোয়িং ও ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজনির্ভর। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় ধরনের জেট পরিচালনা করবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। বিশ্বের অনেক বড় এয়ারলাইনসই মিশ্র-ফ্লিট পরিচালনা করে। এতে নির্দিষ্ট রুট, যাত্রীর সংখ্যা এবং পরিচালন ব্যয়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা যায়। ফলে রুট পরিকল্পনায় নমনীয়তা বাড়ে এবং একই সঙ্গে বহরের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকিও কমে। তবে এর সঙ্গে বাড়তি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পাইলট প্রশিক্ষণ, প্রকৌশলী প্রস্তুত, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। ফলে সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া মিশ্র-ফ্লিট পরিচালনা ব্যয়ও বাড়াতে পারে।
আর্থিক বাস্তবতায় নতুন বিনিয়োগ :
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।কভিড-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল বাড়লেও জ্বালানির উচ্চ মূল্য, পুরনো উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকতে গিয়ে সংস্থাটিকে নানা চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।বিমানের কর্মকর্তারা মনে করেন, নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে জ্বালানি খরচ কমবে, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস পাবে এবং প্রতিটি উড়োজাহাজের দৈনিক ব্যবহারও বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালন ব্যয় কমে আসতে পারে।
কূটনীতিরও বার্তা : বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের কূটনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবচেয়ে বড় অংশীদার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও অন্যতম প্রধান বাজার এবং সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছে।গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও বলেন, দেশের প্রয়োজন বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ই। একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনা মানে অন্যটির বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়। জাতীয় প্রয়োজন ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনাতেই সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা : সরকার ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। লক্ষ্য হলো জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটিকে একটি আধুনিক, লাভজনক ও আঞ্চলিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক এয়ারলাইনসে রূপান্তর করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক হাবে পরিণত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আগামী এক দশকে বিমানের বহরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটবে। এর মাধ্যমে শুধু বহরের আকারই বাড়বে না, বদলে যাবে পরিচালন কৌশলও।


