Homeলন্ডনকেয়ার হোমগুলো কাউন্সিলের কাছ থেকে প্রতি শিশুর জন্য সপ্তাহে নিচ্ছেন ২৮ হাজার...

কেয়ার হোমগুলো কাউন্সিলের কাছ থেকে প্রতি শিশুর জন্য সপ্তাহে নিচ্ছেন ২৮ হাজার পাউন্ড

যুক্তরাজ্যের চিলড্রেনস কেয়ার হোম বা শিশু আবাসন কেন্দ্রগুলোর পেছনে করদাতাদের অর্থের নজিরবিহীন অপচয় ও ব্যাপক মুনাফাখোরির তথ্য ফাঁস হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টাইমস’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কেয়ার হোমের পরিচালকদের অনেকেই বিলাসী জীবনযাপন করছেন। কেউ খণ্ডকালীন বাউন্সার হিসেবে কাজ করলেও শিশুদের দেখভালের নামে সরকারি তহবিল থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার পাউন্ড। আবার কেউ দামি ঘড়ি পরিহিত বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মালিক।

আকাশচুম্বী খরচের খতিয়ান অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসেক্স কাউন্টি কাউন্সিল একজন শিশুর পেছনেই ‘ল্যাভেন্ডার গ্রোভ কেয়ারস’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৮,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত ফি প্রদান করেছে, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ১৪ লাখ পাউন্ড। এছাড়া আরও সাতজন পৃথক শিশুর দেখভালের জন্য কাউন্সিল বিভিন্ন হোমকে প্রতি শিশুর বিপরীতে বছরে প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড করে দিচ্ছে।

একইভাবে ‘অ্যাকোয়া চিলড্রেনস হোমস’ সপ্তাহে ১৯,০০০ পাউন্ড এবং ‘অ্যাটলাস চিলড্রেনস হোমস’ সপ্তাহে ১৮,০০০ পাউন্ড করে সরকারি তহবিল থেকে তুলে নিচ্ছে। গত বছর ‘তথ্য জানার অধিকার’ আইনের আওতায় আসা তথ্যে দেখা যায়, ওয়েস্ট সাসেক্স ও স্টোক-অন-ট্রেন্ট কাউন্সিলও প্রতি শিশুর জন্য সপ্তাহে যথাক্রমে ২৬,০০০ ও ২৩,০০০ পাউন্ডের বেশি খরচ করেছে।

অনিবন্ধিত ‘ছায়া বাজার’ ও নিম্নমান এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচের পরও শিশুদের সেবার মান নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেয়ার হোম তদারককারী সংস্থা ‘অফস্টেড’ (Ofsted)-এর প্রধান স্যার মার্টিন অলিভার জানান, নিবন্ধিত হোমের ঘাটতি থাকায় কাউন্সিলগুলো বাধ্য হয়ে শিশুদের অনিবন্ধিত হোমে পাঠাচ্ছে। এর ফলে বাজারে একটি অবৈধ ‘ছায়া বাজার’ গড়ে উঠেছে। অফস্টেড বর্তমানে প্রায় ৯০০টি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে, যার অধিকাংশই ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পুরো খাতটি এখন প্রায় সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মুনাফা লোটার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি এই লাগামহীন মুনাফাখোরির বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আবাসন ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ রিড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্পষ্ট আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, অসহায় শিশুদের পুঁজি করে যারা ‘শকুনের’ মতো মুনাফা লুটছে, তাদের এই আচরণ আর বরদাস্ত করা হবে না। করদাতাদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া বন্ধ না করলে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ্যে এনে হেয় করা হবে।

একই সাথে শিশু ও পরিবার বিষয়ক মন্ত্রী জশ ম্যাকঅ্যালিস্টার জানিয়েছেন, নতুন ‘কমিউনিটি ওয়েলবিয়িং অ্যান্ড স্কুলস অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে এই অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রবণতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে এবং অবৈধ ও অনিবন্ধিত আবাসন কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য