টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মহিলা মাদ্রাসায় ভূমি ধসে আটজনের প্রাণহানি হয়েছে। এ সময় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে তিনজন শিশু এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ক্যাম্প-৩-এর জিকে (এক) হাসপাতালে দুজন, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালে একজন এবং ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে একজন মারা যান।
আহত ছয়জনের মধ্যে ক্যাম্প-৩-এর আইওএম হাসপাতালে তিনজন, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালে দুজন এবং ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের আইওএম হাসপাতালে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতরা হলেন, ব্লক : এ-১১, এর রাশিদা বেগম (১৩), ব্লক : এফ-১ এর উম্মে নেজাতুল (১৩), ব্লক : এফ-১ এর সালমা (১২), ব্লক : এ- ৮ এর উমাইসা বিবি (১৩)। বাকিদের নাম জানা যায়নি। আহতরা হলো আসরা (০৯), ক্যাম্প : ৩, বেগম জান (১৫), ফারেসা বিবি (১২)। বাকিদের নাম পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের খদিজাতুলখোবরা মাদ্রাসার ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় ভিতরে ৩০ জনের মতো শিশু কোরআন শিক্ষা ও পাঠগ্রহণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল।
হঠাৎ পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক, এপিবিএন, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, তাৎক্ষণিকভাবে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে আরও মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গত ৬ জুলাই রাতে পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজনের প্রাণহানি ঘটে।


