Homeজাতীয়পাহাড়ধসে তিন দিনে ২২ জনের প্রাণহানি

অতি বৃষ্টিতে তলিয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চল,যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
পাহাড়ধসে তিন দিনে ২২ জনের প্রাণহানি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা চার দিন ধরে অতি ভারী বর্ষণ চলছে। এই রেকর্ড বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় গত তিন দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে গতকাল বুধবারই প্রাণ হারিয়েছে সাতটি শিশু।

টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরে দ্বিতীয় দিনের মতো তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও আবাসিক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরপানি জমে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। একই সাথে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে প্রায় ৪৫০ জন পর্যটক আটকে পড়েছেন।

পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্থানে ট্র্যাজেডি

টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে। সেখানে একটি পাহাড়ের পাশের প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে একটি মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) ওপর পড়লে মাটিচাপায় পাঁচজন ছাত্রী নিহত হয়। নিহতদের বয়স ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা করা হলেও পাঁচজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া গুরুতর আহত আরও তিন ছাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম নগরের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া নগরের চশমা হিল এলাকায় পাহাড়ধসের আরেকটি পৃথক ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়েছে।

টানা দ্বিতীয় দিন পানির নিচে চট্টগ্রাম নগরী

নগরের কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চকবাজার ও বাকলিয়াসহ বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে ছিল। বাসা-বাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও মালামাল নষ্ট হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সিটি কর্পোরেশনের নালা-নর্দমা পরিষ্কারের ঘাটতি এবং যথাযথ সমন্বয়হীনতাকে এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী করেছেন।

কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ

চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রেলপথ গত দুই দিন ধরে দুই ফুট পানির নিচে ডুবে আছে। ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে, যার কারণে প্রতিদিন যাতায়াত করা প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ মাঝপথে ট্রেন যাত্রা বাতিল করায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ পরিস্থিতি পরিদর্শন করে ভবিষ্যতে এই লাইনটি আরও পাঁচ ফুট উঁচু করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সাজেকে আটকে পড়েছেন সাড়ে চার শ পর্যটক

পাহাড়ি ঢলের পানিতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও রাঙামাটির সাজেক সংযোগ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সাজেক ভ্যালিতে বেড়াতে যাওয়া প্রায় ৪৫০ জন পর্যটক সেখানে আটকা পড়েছেন। কটেজ মালিক সমিতি জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটকদের যাতায়াত সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ।

৫ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হাজারো পরিবার

টানা অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া অঞ্চলে অন্তত ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং ফসলি জমি ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য