গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের সাতটি শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়েছে ক্রয়াদেশের ঘাটতি ও মালিকদের আর্থিক সংকটের কারণে।
শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০৫টি কারখানা পর্যাপ্ত অর্ডার না পাওয়ায় এবং ১৯০টি কারখানা আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়েছে। এছাড়া শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংক জটিলতা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, কাঁচামালের অভাব ও অন্যান্য কারণে বন্ধ হয়েছে আরও ৬২টি কারখানা।
সবচেয়ে বেশি কারখানা বন্ধ হয়েছে গাজীপুরে, যেখানে ১৫৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম গুটিয়েছে। এরপর চট্টগ্রামে ১১৯টি এবং আশুলিয়ায় ১২৪টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। মোট বন্ধ কারখানার মধ্যে ১৫১টি পোশাক ও বস্ত্র খাতসংশ্লিষ্ট।
সম্প্রতি গাজীপুরের ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেডও স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়েছেন। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ কারখানাই আইন অনুযায়ী নোটিশ দিয়ে বন্ধ হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হলে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়।
শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অর্ডার কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, ব্যাংকঋণ সংকোচন এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক কারখানা টিকে থাকতে পারছে না।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সব কারখানা একই কারণে বন্ধ হয়নি। কিছু কারখানা সংকটে রয়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান সহায়তা পেলে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। এজন্য বন্ধ কারখানাগুলোর অবস্থা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
এদিকে সরকার বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ৩২২টি কারখানা ইতোমধ্যে এ সহায়তা পাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯টি পুরোপুরি এবং ১২৩টি আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব কারখানাকে একসঙ্গে সহায়তা না দিয়ে যেগুলোর পুনরায় চালু হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো বাছাই করে সহায়তা দেওয়া উচিত। এজন্য স্বাধীন অডিটের মাধ্যমে কারখানাগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ের পর পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


