গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আজ মাঠে নামার অপেক্ষায় ব্রাজিল, যেখানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছে স্কটল্যান্ডও। দুই ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের ৩ নম্বরে আছে স্কটিশরা।
অন্যদিকে দুই ম্যাচে ব্রাজিলের পয়েন্ট ৪। তারা আছে টেবিলের শীর্ষে। দুই ম্যাচ খেলে ব্রাজিলের সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় মরক্কো আছে পয়েন্ট টেবিলের ২ নম্বরে। তিন দলের সামনেই তাই সুযোগ আছে পরের পর্বে যাওয়ার।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হাইতি। প্রথম দুই ম্যাচ হারা হাইতির এর মধ্যেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। মরক্কোর জন্য ম্যাচটি তাই খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়।
তবে একই সময়ে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ড-ব্রাজিল ম্যাচটিতে দুই দলের লড়াইটা জমারই কথা।
কাগজে-কলমে অবশ্য ব্রাজিলই ফেভারিট। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখনো অপরাজিত। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কার্লো আনচেলোত্তির দল। ব্রাজিলের জন্য স্বস্তির খবর হচ্ছে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমারকে পাওয়া যাচ্ছে। চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচ খেলা হয়নি তাঁর।মাঝে শঙ্কা জেগেছিল, গ্রুপ পর্বেই হয়তো নেইমারকে পাওয়া যাবে না। তবে সংশয় কাটিয়ে এখন পুরোপুরি সুস্থ তিনি।
অবশ্য নেইমার ছাড়াও ব্রাজিলের আক্রমণভাগ ছন্দে আছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেয়োস কুনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলির গতি আর সৃজনশীলতা যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই বড় হুমকি। বিশেষ করে হাইতির বিপক্ষে পাওয়া বড় জয় দলটিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। অন্যদিকে ইতিহাস গড়ার সুযোগ স্কটল্যান্ডের সামনে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসে দলটি এরই মধ্যে দেখিয়েছে যেকোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গেই লড়াই করতে পারে তারা। প্রথম ম্যাচে হাইতিকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পায় স্কটিশরা। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে মরক্কোর কাছে হেরে কিছুটা চাপে পড়ে গেছে স্টিভ ক্লার্কের দল।
তবু আশা ছাড়ছে না স্কটল্যান্ড। মিডফিল্ডে স্কট ম্যাকটমিনে ও জন ম্যাকগিনের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে লড়াই করার সামর্থ্য আছে তাদের। শারীরিক ফুটবল, সংগঠিত রক্ষণ আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণ—এই তিন অস্ত্র নিয়েই ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চায় স্কটিশরা। বিশ্বকাপে এর আগে একবারই স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি স্কটল্যান্ড হেরেছিল ২-১ গোলে। প্রায় তিন দশক পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। এবার দুই দলের বাস্তবতা একটু ভিন্ন। ব্রাজিলের লক্ষ্য শিরোপার পথে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করা। আর স্কটল্যান্ড চাইছে সেরা বত্রিশে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে।
তবে ব্রাজিলের তারকা-ঝলমলে আক্রমণভাগের সামনে স্কটিশদের লড়াকু মানসিকতা কতটা বাধার দেয়াল হতে পারে, সেটা বড় প্রশ্ন। অবশ্য আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না দলটির সহকারী কোচ স্টিভেন নেইস্মিথ। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলাররা বড় তারকাদের দেখে ভয় পায় না। তারা বরং নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস রেখেই মাঠে নামবে।’ এদিক থেকে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে দাপুটে জয়ই চাইবে মরক্কো। ব্রাজিলের সঙ্গে মরক্কোর গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে গোলসংখ্যাও যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


