সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুক্তরাজ্যের আয়োজনে পূর্ব লন্ডনের ব্রেডি আর্টস সেন্টারে ২৭ ও ২৮ জুন ২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ বইমেলা-২০২৬। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার ভিড়ে থেকেও যখন আমরা নিজেদের ভাষা, সাহিত্য আর সংস্কৃতির শেকড় খুঁজে ফিরি, তখন লন্ডনে বাংলাদেশ বইমেলার মতো আয়োজন আমাদের কাছে হয়ে ওঠে প্রাণের উৎসব। বিলেতে ফুটে উঠে যেন একখণ্ড বাংলাদেশ।
প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এই বইমেলা। বইমেলায় বিপুল সংখ্যক লেখক, পাঠক ও দর্শকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। প্রথম দিন দুপুরে একুশে পদকপ্রাপ্ত, আবৃত্তিশিল্পী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তীসহ যুক্তরাজ্যের অনেক গুণী লেখকদের উপস্থিতিতে বইমেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। তখন বিলেতের একঝাঁক কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নেন, প্রবাসে থেকেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা জিইয়ে রাখতে হবে, পরবর্তী প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। এই ধারাবাহিকতা চলমান রাখতে দু’দিন ব্যাপী এই বইমেলা।
বাংলাদেশ বইমেলা শুধু পাঠক আর লেখকের মিলনমেলা নয়, বরং এটি প্রবাসী জীবনের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা আর নতুন প্রজন্মকে ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত রাখার একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠেছে। বইমেলা ঘুরে দেখা গেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের নামকরা প্রকাশনী এখানে স্টল সাজায়। অনেকগুলো নতুন বই প্রকাশিত হয়। লেখকের সঙ্গে পাঠকের সরাসরি আলাপ হয়। মুক্তমঞ্চে চলে কবিতা পাঠ, সাহিত্য আলোচনা ও সংগীত।
প্রথম দিনে লন্ডনের এই বই মেলায় এসে ঘুরে ঘুরে বই কিনে বাংলা মিরর সম্পাদক আব্দুল করিম গণি ঢাকা পোস্টকে বলেন, বই হলো আমাদের মনের খোরাক, জ্ঞানের ভাণ্ডার। তিনি বলেন, তরুণ লেখকদের বই কিনেছি তাদেরকে অনুপ্রাণিত করা, উৎসাহ দেওয়ার জন্য। তবে সবগুলো বই অবসরে একটা একটা করে পড়বো। Maps
এভাবেই লন্ডনের এ বইমেলা হয়ে ওঠে প্রবাসী পরিবারের জন্য এক মিলনমঞ্চ, যেখানে সবাই অনুভব করেন নিজের শেকড়ের টান। এ মেলার আরেকটি বিশেষ দিক হলো প্রতি বছরের ন্যায় গুণী একজন কবিকে সাহিত্য পদক ২০২৬ দেওয়া হয়। এবছর সাহিত্য পদক ২০২৬ পেয়েছেন কবি মাশূক ইবনে আনিস।
সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্য থেকে এবছর গুণিজন সম্মাননা ২০২৬ পেয়েছেন গবেষক ফারুক আহমদ। এছাড়া বেস্ট পারফর্মিং মেম্বার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেয়েছেন উপস্থাপক হেনা বেগম ও নুরজাহান শিল্পী।
বই মেলায় আলোচনা, সেমিনার, আবৃত্তি, গান সহ নানা আয়োজনের ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয় নতুন নতুন বই এর মোড়ক উন্মোচন। কবি আসমা মতিন এর উপন্যাস “পরী কাহিনী” ও কবি জান্নাতুল ফেরদৌস ডলির কাব্য গ্রন্থ “মনের সীমানা নেই” গ্রন্থ দু’টির মোড়ক উন্মোচনসহ এরকম আরো অনেক গুলো নতুন প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয় এই বই মেলায়। দ্বিতীয় দিনের সন্ধ্যা বেলার শেষ আকর্ষণ ছিল- ভারতীয় সংগীতশিল্পী সাহানা বাজপেয়ী। আর গানের সাথেই বইমেলায় আগত দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সম্পন্ন হয় এই মেলা।


