Homeলন্ডনযুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে গুনতে হতে পারে ১০ হাজার পাউন্ড

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে গুনতে হতে পারে ১০ হাজার পাউন্ড

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আরও কঠোর নীতিমালা আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, তাদের সরকারি খরচে থাকা-খাওয়ার জন্য ব্যয় হওয়া অর্থের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা) পরিশোধ করতে হবে। এই অর্থ পরিশোধ না করলে তারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি (সেটেলমেন্ট) পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

সরকারের প্রস্তাবিত অভিবাসন ও আশ্রয় আইনের আওতায় আয়ভিত্তিক এই অর্থপরিশোধের ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে শিক্ষাঋণ পরিশোধ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলেও মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো এর কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, যুদ্ধ, নির্যাতন ও মানবিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ওপর এটি অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতির মাধ্যমে সরকারের প্রত্যাশিত রাজস্ব খুব বেশি হবে না। কারণ শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পাঁচ বছর পরও অধিকাংশের আয় তুলনামূলক কম থাকে। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ শরণার্থীর বার্ষিক আয় ২০ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি ছিল।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, “আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তা দেয়া সরকারের দায়িত্ব হলেও কর্মক্ষম হয়ে ওঠার পর তাদেরও সমাজের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। যারা আয় করার সক্ষমতা অর্জন করবেন, তাদের কাছ থেকে সরকারি ব্যয়ের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।”

হোম অফিস জানিয়েছে, মোট প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী এই অঙ্ক পরিবর্তনের ক্ষমতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে থাকবে।

এদিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেছেন, “বর্তমান আয়ের চিত্র বিবেচনায় খুব কমসংখ্যক শরণার্থীই এই অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা অর্জন করবেন। তার মতে, নীতিটি সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আনবে না; বরং কিছু মানুষকে চাকরি গ্রহণ বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত আর্থিক দায় এড়াতে কেউ কেউ বিকল্প আবাসনের পথ খুঁজতে পারেন কিংবা কর্মসংস্থানে আগ্রহ হারাতে পারেন।”

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দ্য গার্ডিয়ান হোম অফিসের কাছে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়, আয়সীমা এবং অর্থ পরিশোধের শর্ত সম্পর্কে তথ্য চাইলেও এখনো চূড়ান্ত কোনো কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।

হোম অফিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আয়সীমা ও অর্থ পরিশোধের বিস্তারিত বিধান দ্বিতীয় ধাপের বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তাই এখনই প্রকল্পটির আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়।

প্রস্তাবিত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল-এ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ-৮ অভিবাসন ও বহিষ্কারসংক্রান্ত মামলায় কীভাবে প্রয়োগ হবে, সে বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং আধুনিক দাসত্ব-সংক্রান্ত আইনি কাঠামো সংস্কারেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য