Homeজাতীয়ভূমিকম্প ঝুঁকিতে ঢাকা, ৫৬ শতাংশ ভবন উচ্চঝুঁকিতে

ভূমিকম্প ঝুঁকিতে ঢাকা, ৫৬ শতাংশ ভবন উচ্চঝুঁকিতে

রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার খুব কাছাকাছি এলাকায় একের পর এক ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ২২ জুন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, যা ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। গত বছরের নভেম্বরে নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছিল। ওই ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে।

ঢাকার কাছেই ঘন ঘন কম্পন

ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, বাংলাদেশের অবস্থান ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মিজ প্লেটের প্রভাব অঞ্চলে। এ কারণে দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো স্বাভাবিক টেকটোনিক কার্যকলাপের অংশ হতে পারে, আবার কোনো সক্রিয় বা পুনরায় সক্রিয় হওয়া ফল্টের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ভূমিকম্প সব সময় বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়। তবে একই অঞ্চলে বারবার কম্পন হলে তা গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

ঢাকার ৫৬ শতাংশ ভবন উচ্চঝুঁকিতে

হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকার কংক্রিট ভবনের ৫৬ দশমিক ২৬ শতাংশ ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৩৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ ভবন। গবেষণাটি রাজউকের জিআইএস ডাটাবেজের ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি ভবনের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার ঝুঁকি শুধু ভূতাত্ত্বিক কারণে নয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিল্ডিং কোড না মানা, সরু রাস্তা, জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণ এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণেও বেড়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের হালনাগাদ তথ্য নেই

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করা হয়। ২০১৬ সালে তা হালনাগাদ করা হয়েছিল। তখন রাজধানীতে ৩২১টি অতিঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং বিধিবিধান লঙ্ঘন করে নির্মিত প্রায় ৫ হাজার ভবনের তথ্য পাওয়া যায়। তবে এরপর নতুন করে পূর্ণাঙ্গ হালনাগাদ তালিকা করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোন ভবন নিরাপদ আর কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্ধারণে জরুরি ভিত্তিতে ভবন পরীক্ষা করা দরকার। প্রয়োজনে ভবনগুলোকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী সবুজ, হলুদ ও লাল শ্রেণিতে ভাগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বড় ভূমিকম্পে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা

বুয়েটের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ছয়তলার বেশি উচ্চতার ভবনগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। রাজধানীতে লাখ লাখ ভবন থাকলেও অনেকগুলোর কাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বড় ভূমিকম্প হলে বিপুল প্রাণহানি ও কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মেগা প্ল্যানের উদ্যোগ

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরকার ঢাকাকে ঘিরে বড় কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় ঢাকা ও আশপাশে ১ লাখ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৪৫০টি অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট নির্ধারণ, উদ্ধার সরঞ্জামের তালিকা তৈরি এবং হাসপাতাল ও হেলিকপটার সক্ষমতার তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নেই। তাই প্রস্তুতিই সবচেয়ে বড় ভরসা। নিয়মিত মহড়া, জনসচেতনতা, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত চিহ্নিত করাই এখন ঢাকার জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য