বিদেশি শক্তি বেনামে চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সংগঠনটির দাবি, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে চট্টগ্রাম বন্দরকে টেনে আনার চেষ্টা চলছে। এ কারণে বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।
সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার জানিয়েছেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করা হয়েছিল। যার প্রভাব বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ওপরও রয়েছে।
তার ভাষ্য, বর্তমান সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। সরকারকে দুর্বল অবস্থানে না থেকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। এতে বিদেশি শক্তির সঙ্গে দরকষাকষির সক্ষমতাও বাড়বে।
বক্তৃতায় তিনি নিশ্চিত করেন, ‘আমাদের আন্দোলন সরকারবিরোধী নয়। বরং দেশের সার্বভৌমত্ব, সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।’
বিদেশি ইজারার বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এতগুলো সরকারকে দেখেছি কেউই আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতে পারে না, দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারে না। দুর্নীতি অর্থপাচার ঠেকাতে পারে না। বেকারত্ব দুর করতে পারে না। আমাদের সরকারগুলো তো অদক্ষ। তখন আমরা কী বলি এই সরকার বিদেশিরা চালাক! সেটি যদি না চাই তাহলে অদক্ষ অজুহাত তুলে বন্দরে কেন বিদেশি অপারেটর আনতে চাইছি।’
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশীয় অপারেটরের ব্যবস্থাপনায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিবছর প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে।
তাদের অভিযোগ, লাভজনক এই টার্মিনালগুলোর প্রতিই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে না দেওয়ার আহ্বান জানান।
একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেছেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সরকারকে তা বিবেচনায় নিতে হয়। তাই জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড শাহ আলম, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার এবং ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেনসহ অন্যরা।
এর আগে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে বন্দর রক্ষা কমিটি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, এনসিটি ও সিসিটি দেশি বা বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করা, চট্টগ্রাম বন্দরের সব টার্মিনাল বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা, পতেঙ্গা, পানগাঁও, লালদিয়াসহ বন্দর-সংশ্লিষ্ট সব চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো গোপন সমঝোতা না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার আওতায় সংরক্ষণের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা।


