দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১৬০ জন, যার মধ্যে ৫৭ শতাংশই ১৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ। একই সময়ে মারা গেছেন ১০ জন, এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে জুন মাসেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২ হাজার ৯২১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বাকি ৪৩ শতাংশ আক্রান্ত শূন্য থেকে ১৫ বছর এবং ৪০ থেকে ৮০ বছর বয়সী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পড়াশোনা ও কর্মক্ষেত্রের কারণে তরুণরা বেশি সময় ঘরের বাইরে থাকায় তাদের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি।
চলতি মাসেই প্রায় দুই হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত সপ্তাহে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪৮০ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগের পাশাপাশি বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বৃষ্টির পানিতে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়ায় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু হাসপাতালনির্ভর উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশা ও লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


