এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে চার কোটি টাকার বিল উত্তোলনের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে ৪ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বান্দরবান জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন। এ বিষয়ে তদন্ত করার লক্ষ্যে বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় পরিষদের গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সদর হাসপাতালে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ সময় তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করা হয় এ পত্রের মাধ্যমে।
জেলা পরিষদের কয়েকজন জানান, বান্দরবান সদর হাসপাতালে ওষুধ, কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতিসহ সরঞ্জাম সরবরাহের দরপত্রে চার কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির বিরুদ্ধে।
তথ্যমতে, বান্দরবান সদর হাসপাতালের ওষুধ, অক্সিজেন, যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরবরাহের ছয়টি ভাগে চার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, দরপত্রের গোপন রেট কোড পছন্দের ঠিকাদারকে সরবরাহ করে দরপত্রটি পাওয়ার জন্য এবং মালামাল সরবরাহের কাজগুলো বাগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীসহ দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। টেন্ডারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএসএম নামে পাঁচটি এবং আলমগীর একটি কাজ বাগিয়ে নেন। পরে ১৩ জুন কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ মোতাবেক আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
ওষুধ সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের অর্থায়নে এক কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা, পার্বত্য পরিষদের অর্থায়নে ৩১ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা, কেমিক্যাল ক্রয়ে ৮০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, বেন্ডেজ ক্রয়ে ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, লিলেন ক্রয়ে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ফার্নিচার ক্রয়ে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।


