চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও অন্তত ২০ লাখ ১২ হাজার ৩১০টি আসন ফাঁকা থাকবে, যা মোট আসনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডে প্রায় ১৪ লাখ ৫১ হাজার এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (ডিপ্লোমাসহ) সাড়ে ৫ লাখের বেশি আসন খালি পড়ে থাকবে। শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মতে, শিক্ষার মানহীনতা, যত্রতত্র মানহীন প্রতিষ্ঠানের আত্মপ্রকাশ, গ্রামীণ ও শহর এলাকার বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে দেশের উচ্চমাধ্যমিক ও ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা ৩১ লাখ ৫১ হাজারের বেশি। অথচ গত সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মাত্র ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর ওপর এসএসসির পর ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা যুক্ত হলে ফাঁকা আসনের পাল্লা আরও ভারী হবে। ২০২৪ সালে ১৬ লাখ ৭২ হাজার জন এসএসসি পাস করলেও চলতি বছর এইচএসসিতে অংশ নিয়েছেন মাত্র ১২ লাখ ৭০ হাজার জন, অর্থাৎ প্রায় ৪ লাখ ১ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে গেছে।
বন্ধ হতে পারে শিক্ষার্থীশূন্য প্রতিষ্ঠান
চলতি বছর ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, সন্তোষজনক মান ধরে রাখতে না পারায় প্রায় ২৫০টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ভর্তি এবার স্থগিত করা হচ্ছে, যার ফলে আসন সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীরা মূলত হাতে গোনা কয়েকটি খ্যাতনামা কলেজে ভর্তির জন্য ছুটবে। এতে ঢাকার বাইরের ও মফস্বলের বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান তীব্র শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে। ঢাকার সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, “নতুন স্কুল-কলেজের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি শিক্ষিতদের সম্মানজনক কর্মসংস্থান না থাকলে ঝরে পড়ার হার ঠেকানো কঠিন হবে।”
‘প্রকৃত মূল্যায়নেই পাসের হার কমেছে’
গতকাল এক সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, পাসের হার বাড়াতে কৃত্রিমভাবে নম্বর না দিয়ে প্রকৃত মূল্যায়ন করার কারণেই পাসের হার কমেছে। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা ও প্রকৃত চিত্র জানতে সঠিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জোর করে কাউকে পাস বা ফেল করানো যায় না, তবে পাসের হার কমার দায় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার ওপরও আসে।”
একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, আগামী বছর প্রথম থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম বা কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে, যা জানুয়ারি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হবে।


