রাজধানী ঢাকায় একের পর এক টার্গেট কিলিং ও সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত হচ্ছে ঢাকার বাইরের পেশাদার শুটার। শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মূল পরিকল্পনাকারীরা স্থানীয় ক্যাডারদের এড়িয়ে এখন জেলা শহর কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভাড়াটে কিলার এনে মাঠে নামাচ্ছে। হত্যা বা হামলার মিশন শেষ করেই ঘাতকরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে সটকে পড়ছে। পুলিশের খাতায় এসব বহিরাগত কিলারদের নাম বা তথ্য না থাকায় অপরাধ প্রতিরোধ তো দূরে থাক, ঘটনার পর জড়িতদের শনাক্ত করতেই চরম হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীতে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক কোন্দল ও ব্যক্তিগত শত্রুতাসাধনে ফের সরব হয়ে উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো। তবে নিজেদের নজরদারি থেকে বাঁচাতে অপরাধের কৌশল আমূল বদলে ফেলেছে তারা। নতুন ছকে অন্য জেলা থেকে একদমই অচেনা ও নতুন মুখদের ভাড়া করে ঢাকায় আনা হচ্ছে। তারা কিছুদিন গোপনে অবস্থান নিয়ে টার্গেটের ওপর রেকি চালায়। এরপর সময় সুযোগমতো অতর্কিতে গুলি চালিয়ে স্থান ত্যাগ করে। ফলে স্থানীয় সোর্স বা প্রচলিত গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এদের বিষয়ে আগে থেকে কোনো আগাম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা বেশ কয়েকটি অপরাধে ঢাকার বাইরের অস্ত্রধারীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ইতোমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধী যে অঞ্চলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
খাতা-কলমের তালিকায় সীমাবদ্ধ নজরদারি
পুলিশের কাছে ঢাকা মহানগরের ৮টি বিভাগে ৪ শতাধিক পেশাদার শুটার ও ক্যাডারের হালনাগাদ তালিকা থাকলেও তা বাস্তবিক অর্থে খুব একটা কাজে আসছে না। মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও ও মিরপুরসহ বিভিন্ন জোনে ছড়ানো এসব তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ওপর পুলিশ নজরদারি রাখলেও, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া নতুন শুটাররা থাকছে সম্পূর্ণ আড়ালে।
সম্প্রতি মিরপুর-১৩ এলাকায় যুবদল নেতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় ইউসুফ আলী পারভেজ নামের এক কর্মী নিহতের পেছনে ঝিনাইদহ থেকে আসা চার ভাড়াটে শুটারের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ঘটনার সময় চঞ্চল নামের এক শুটারকে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা, যার সূত্রে বেরিয়ে আসে পুরো জট। এছাড়া গত এপ্রিলে নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া কিলারদেরও এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ নিশ্চিত, তারা ঢাকার বাইরের কোনো চক্র থেকে ভাড়া খাটা শুটার।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ঢাকাভিত্তিক পুরোনো তালিকা দিয়ে বর্তমান অপরাধ চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। সারাদেশের থানা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত আন্তঃজেলা অপরাধী ডাটাবেজ শেয়ারিং এবং নতুন সক্রিয় কিলারদের অবিলম্বে সনাক্ত করে নজরদারিতে আনা না গেলে রাজধানীর নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও চরম রূপ নেবে।


