বাহরাইন ও কুয়েতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশ দুটিতে গতকাল মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছে তেহরান। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে জানায়, তারা শত্রুদের ছোড়া মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করছে। কোনো বিস্ফোরণের শব্দ হলে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করার কারণে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হতে পারে। কুয়েতে হামলার প্রায় একই সময় বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এ সময় বাসিন্দাদের নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানায় বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার কুয়েতের পানি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় ইরান। গতকাল কোন বস্তু লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগন। সোমবার বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত আহত হওয়া সেনাসদস্যের বেশির ভাগই মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং আহত সেনার ৯৬ শতাংশই ইতোমধ্যে নিজেদের দায়িত্বে ফিরে গেছেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের জবাবে শন পার্নেল এসব কথা বলেন। প্রতিবেদনে অভিযোগ করে বলা হয়েছিল, পেন্টাগন ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা আহত হওয়ার খবর জনগণের কাছে লুকিয়ে রাখছে। তবে পার্নেল মার্কিন সেনা আহত হওয়ার তথ্য লুকিয়ে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের আহত হওয়ার পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার আগে দিয়ে জর্ডান ও ইরাকে ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর এসেছে। সোমবার পেন্টাগন এই নিহত সেনাদের পরিচয় শনাক্ত করে। সাম্প্রতিক এ মৃত্যু নিয়ে সেনা নিহতের সংখ্যা ১৭-এ পৌঁছানোর পর আহত সেনাদের ওই তথ্য সামনে এলো।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে এখনো হামলা চালিয়েই যাচ্ছে। সোমবার দশম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ দিন হালনাগাদ তথ্য দিয়ে পেন্টাগনের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেম’ জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪২৭ মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।


