কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে গতকাল সন্ধ্যায় আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা এখন চরমে। গতকাল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদে চলো’ আন্দোলনে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে তাঁর বাসভবন লোককল্যাণ মার্গের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়গের নেতৃত্বে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের নেতারা। সেখান থেকেই রাহুল গান্ধীকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাওয়া হয়।
গতকাল সকাল থেকেই সিজেপির আহ্বানে যন্তরমন্তর এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। যন্তরমন্তর এলাকায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকাটিতে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়।
বেলা ২টায় কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা না করে সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করছে। পরে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সমর্থকদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন ঘেরাও করেন। তাঁদের দাবি, সোমবার আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের অত্যাচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। কিছুক্ষণ পর রাহুল গান্ধী পুলিশকে এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির পেছনের গেট দিয়ে অবস্থান কর্মসূচিস্থলে পৌঁছান। পরে পর্যায়ক্রমে মাল্লিকার্জুন খাড়গেসহ কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও অন্য নেতারা অবস্থানস্থলে যান। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিক্ষোভস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পর অবস্থানরতদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এ সময় রাহুল গান্ধী রাস্তায় বসে অবস্থান নেন এবং সরতে অস্বীকৃতি জানালে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য তাঁকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তাঁর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। রাহুল গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ ইয়াদবকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
এরপর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ অনেককে নিয়ে যাওয়া হয় মন্দির মার্গ থানায়। অন্যদিকে রাহুল, অখিলেশকে নিয়ে যাওয়া হয় ছত্রশাল স্টেডিয়ামে। এদিকে প্রিয়াঙ্কার আটকের খবর শুনে মন্দির মার্গ থানায় ছুটে যান তার মা কংগ্রেস সাংসদ সোনিয়া গান্ধী। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটকের খবর শুনে মন্দির মার্গ থানার সামনে অবস্থান নেন কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। তাদের মুক্তির দাবিতে চলে স্লোগান। পরে রাত ১০টার দিকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ আটকদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী জানান, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভেবেছেন উত্তর না দিয়ে, পরিণাম না ভুগে তিনি পার পেয়ে যাবেন! কিন্তু তিনি তা পারবেন না, এবার অন্তত নয়। যেসব দেশপ্রেমিক মানুষ বিশ্বাস করেন যে আমাদের শিক্ষার্থীরা সুবিচারের যোগ্য, তাদের প্রতি আমার আহ্বান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিন। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠকে উপেক্ষা করা যাবে না।’
এর আগে সকালে বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস একটি জাতীয় উদ্বেগের বিষয় এবং এটি মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সেরা আইনজীবীদের যুক্ত করার নির্দেশও দেন তিনি। তবে এতেও শান্ত হননি বিক্ষোভকারীরা। দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।


