দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরো চার শিশু মারা গেছে। এ সময় হামের লক্ষণ নিয়ে আরো ৮৭৮ জন হাসপাতালে এসেছে। হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩০ জনের। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গতকাল মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন সিলেটের। একজন রাজশাহীতে এবং আরেকজন ময়মনসিংহে মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৭০২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময় হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৫ শিশু। মোট মারা গেছে ৭৯৭ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ২৪৪ শিশু। দেশে এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে মোট ১৪ হাজার ৭০৮ শিশুর। এ ছাড়া এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২১৮ জন। একই সময় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৭৯ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে মোট ৯৮ হাজার ৪১১ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
দেশে চলমান হাম পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনস্বাস্থ্য খাতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, টিকার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো, কার্যকর রোগ নজরদারি এবং দ্রুত আক্রান্তদের শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনতে পারলে হামের বিস্তার ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে উচ্চ টিকাদান কাভারেজ নিশ্চিত করা, কার্যকর রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করা এবং কমিউনিটির সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে টিকার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেশি—এমন এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আইসিডিডিআরবির ইনফেকশাস ডিজিজেস ডিভিশনের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও সিনিয়র ডিরেক্টর এবং ভাইরোলজি ল্যাবরেটরি অ্যান্ড জিনোম সেন্টারের প্রধান ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি বছরের হাম পরিস্থিতি কেন নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করা প্রয়োজন। ভাইরাসের কোনো পরিবর্তন, টিকার কার্যকারিতা বা অন্য কোনো কারণ এর পেছনে ভূমিকা রাখছে কি না, সেটিও বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধান করা দরকার।


