Homeআন্তর্জাতিকবিশ্ববাজারে এক মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ১১ শতাংশ

বিশ্ববাজারে এক মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ১১ শতাংশ

বিশ্ববাজারে ফের লাগামহীন হয়ে পড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলা শুরুর পর থেকেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে হরমুজ প্রণালি।এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে চলেছে পণ্যটির দাম। এদিকে নতুন করে দুঃসংবাদ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও। দেশটিতে থাকা জ্বালানি তেলের কৌশলগত জরুরি মজুদ কমে ৪৩ বছরে সর্বনিম্ন হয়েছে। এটিই তেলের সবচেয়ে বড় রিজার্ভ।এই অবস্থায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গত এক মাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ১১ শতাংশ। তবে গতকাল সোমবার দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা ধীর হয় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার খবরে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘যুদ্ধ উত্তেজনা কমাতে তারা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে কিছু প্রস্তাব পেয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলবে যদি দেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।’

ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডাব্লিউটিআই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ০.৩৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল হয় ৮২.০৬ ডলার। এর পাশাপাশি ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ০.২০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয় ৮৮.২৪ ডলার। এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি সই হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা ভেঙে দিয়েছেন।এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও সমানতালে জবাব দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ৯ রাত ইরানে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইন জানিয়েছে, তারা নতুন করে ইরানের হামলার মুখে পড়েছে।

প্রথম দফা যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল, এবার কি তেলের দাম তা ছাড়িয়ে যাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনাকল্পনা। এর কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুদ কমে মাত্র ৩১ কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেলে ঠেকেছে। এমনকি এক সপ্তাহ আগের মজুদ থেকে এটি ৩০ লাখ ব্যারেল কম। ১৯৮৩ সালের পর এটিই মার্কিন ইতিহাসে তেলের সর্বনিম্ন মজুদ। জো বাইডেনের আমলে যখন ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল, বর্তমান মজুদ সেই সময়ের চেয়েও দুই কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কম। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুদ কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা আইএনজি এক প্রতিবেদনে বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমবে, তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উভয় পক্ষেই প্রাণহানি ঘটছে। এ উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না এলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় পরিসরে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা দীর্ঘ মেয়াদে তেলের দাম বাড়াবে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) গতকাল দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণের এক ‘অনিরাপদ’ বিকল্প পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ট্যাংকার দুটি অচল হয়ে পড়ে। আইআরজিসির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ট্যাংকারগুলোকে ওই পথ ব্যবহার করতে উৎসাহ দিয়েছিল। তবে রয়টার্স বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

সম্প্রতি উভয় পক্ষই জাহাজে হামলা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোয় নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তারা জাহাজ চলাচলের যে নিয়ম বেঁধে দিয়েছে, সেটা যারা মানছে না, সেসব জাহাজে হামলা করা হচ্ছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে যে তেলবাণিজ্য হয়, তার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই হয় এই প্রণালি দিয়ে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য