Homeআন্তর্জাতিকএক দিনেই মাস্কের সম্পদমূল্য কমেছে ৪৫ বিলিয়ন ডলার

এক দিনেই মাস্কের সম্পদমূল্য কমেছে ৪৫ বিলিয়ন ডলার

স্টারশিপ রকেটের সর্বশেষ উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেয়ারবাজারে আবারও বড় ধাক্কা খেয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ার। টানা কয়েক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির এই শেয়ারের দরপতন হচ্ছে। এবার রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ায় শেয়ারটির দামের আরও এক দফা বড় পতন হয়েছে। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদমূল্য হিসাব করা হয় মূলত শেয়ারের দামের ভিত্তিতে। তাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় এক দিনেই ইলন মাস্কের সম্পদমূল্য ৪৫ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি কমে গেছে। অথচ রকেটটি উৎক্ষেপণের আগে ওয়ালস্ট্রিটের অনেক বিশ্লেষক আশাবাদী ছিলেন, এই উৎক্ষেপণ সফল হলে কোম্পানির শেয়ারের দামের পতন থামবে।

গত শুক্রবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১২৫ ডলারে নেমে আসে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনের টানা পতনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ইলন মাস্কের মালিকানায় রয়েছে স্পেসএক্সের ৪৮০ কোটি শেয়ার। এর বাইরে রয়েছে আরও ৩৫ কোটি স্টক অপশন। শেয়ারদর কমে যাওয়ায় মাস্কের মোট সম্পদমূল্যও কমে দাঁড়ায় ৭৯২ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ৭৯ হাজার ২৮০ কোটি ডলারে। পরে অবশ্য সম্পদমূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ৭৯ হাজার ৭৬০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।

এক দিনে সম্পদমূল্য ৪৫ বিলিয়ন ডলার কমে যাওয়ার পরও মাস্ক এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তারপর আছেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২৮৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ২৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।

গত শুক্রবার ইলন মাস্ক এক ঘোষণায় বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত স্টারশিপের ১৩তম উৎক্ষেপণ শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। কারণ, রকেটের সব কটি ইঞ্জিন চালু হয়নি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই আবার উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে।” পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া অপর এক পোস্টে মাস্ক জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে নতুন করে উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হতে পারে।

স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণের আগে অবশ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ ছিল। ইউবিএসের বিশ্লেষক গ্যাভিন পারসন্স বুধবার প্রকাশিত এক নোটে বলেছিলেন, সাম্প্রতিক দরপতনের কারণে স্টারশিপ উৎক্ষেপণের আগে স্পেসএক্সের শেয়ার কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, উৎক্ষেপণ সফল হলে কোম্পানিটি একাধিক নতুন প্রযুক্তিগত মাইলফলক অর্জন করবে, কোম্পানিটির শেয়ারের জন্য তা ইতিবাচক হতে পারে।

স্পেসএক্সের আইপিও শেয়ারবাজারে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ফলে ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইলন মাস্কের সম্পদমূল্য এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। এখন শেয়ারের দাম যত কমছে, তাঁর সম্পদমূল্যও তত কমছে। স্পেসএক্সের আইপিওর আগে মাস্কের সম্পদমূল্য যত ছিল, এখন তার চেয়েও নিচে নেমে গেছে। গত ৩ জুন তাঁর সম্পদমূল্য ছিল ৮১৩ বিলিয়ন বা ৮১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এখন তা ৮০ হাজার কোটি ডলারের নিচে।

গত ১৬ জুন স্পেসএক্সের শেয়ার সর্বোচ্চ দামে ওঠার পর মাস্কের সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি ডলার। সেখান থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ কোটি ডলার।

এদিকে মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান টেসলা ২২ জুলাই সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনার আগে শেয়ারধারীরা মাস্ক ও টেসলার কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করা হয়েছে যেসব বিষয় নিয়ে, তার মধ্যে একটি হলো টেসলার রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের অগ্রগতি। এক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি যে স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তা অর্জনে বাধা কী। কেন রোবোট্যাক্সি পরিকল্পনার অগ্রগতি থমকে গেছে।

২০০২ সালে স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করেন ইলন মাস্ক। গত ১২ জুন এটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির প্রথম দিনেই স্পেসএক্সের বাজার মূলধন ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোম্পানি এক্স এআইকে অধিগ্রহণ করা হয়। ইলন মাস্কের সম্পদের বড় অংশই স্পেসএক্সে। সেই তুলনায় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় তাঁর সম্পদ কম। ফলে স্পেসএক্সের শেয়ারের দামের উত্থান-পতনে মাস্কের সম্পদমূল্যেরও বড় তারতম্য ঘটে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য