Homeখেলাট্রফি থেকে দুই ম্যাচ দূরে আর্জেন্টিনা: সুইচ দেয়াল টপকে সেমিফাইনালে মেসিবাহিনী, মুখোমুখি...

ট্রফি থেকে দুই ম্যাচ দূরে আর্জেন্টিনা: সুইচ দেয়াল টপকে সেমিফাইনালে মেসিবাহিনী, মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের

চতুর্থ বিশ্বকাপ জয় থেকে মাত্র দুটি ম্যাচ দূরে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটির এক উত্তপ্ত সন্ধ্যায় নাটকীয়তায় ঠাসা এক ম্যাচে ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার তাদের সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড। স্কোরলাইন দেখে আর্জেন্টিনার জয় সহজ মনে হলেও, মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চরম স্নায়ুপরীক্ষা নিয়েছে সুইসরা।

ম্যাক অ্যালিস্টারের গোল ও মেসির অনন্য রেকর্ড ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই প্রথম লিড নেয় আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির চমৎকার কর্নার কিক থেকে হেডের সাহায্যে বল জালে জড়ান আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। টুর্নামেন্টে এটি ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রথম গোল হলেও এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে নতুন এক ইতিহাস গড়েন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে অ্যাসিস্টের সংখ্যা দুই অঙ্কের ঘরে (১০টি) নিয়ে গেলেন তিনি। এই তালিকায় ৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা।

সুইজারল্যান্ডের সমতা ও লাল কার্ডের নাটক শুরুতে এগিয়ে গেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্থের ৬৭ মিনিটে রিকার্ডো রদ্রিগেজের সঙ্গে দুর্দান্ত ওয়ান-টু খেলে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন সুইস ফরোয়ার্ড ড্যান এনডোয়ে। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় এর পাঁচ মিনিট পর। ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের নাটক বা ডাইভ দেওয়ায় ভিএআরের (VAR) সহায়তায় সুইস স্ট্রাইকার ব্রিল এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড।

অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চ ও লাউতারো-আলভারেজের গোল নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা ১-১ গোলে সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১১২ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে এক অসাধারণ বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন হুলিয়ান আলভারেজ। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে দলের ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন লাউতারো মার্টিনেজ। পুরো টুর্নামেন্টে এই প্রথম কোনো ম্যাচে গোল করতে না পারলেও পুরো ম্যাচে বলের গতি নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণভাগের মূল কাণ্ডারি ছিলেন মেসিই। বর্তমানে ৮ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট নিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে আছেন তিনি।

মেসির সামনে নতুন রেকর্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম লড়াই মেসি যদি এবার আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে পারেন, তবে ফুটবল ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে দলকে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে (২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬) নিয়ে যাওয়ার একক বিশ্বরেকর্ড গড়বেন তিনি। তবে সেমিফাইনালে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী এক ম্যাচ। দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০০-এর বেশি ম্যাচ খেললেও মেসি কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি। ২০০৫ সালে দুই দলের শেষ দেখায় মেসির অভিষেক হলেও তিনি দলে ছিলেন না।

আগামী বুধবার রাতে আটলান্টায় ঐতিহাসিক এই অপূর্ণতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তবে এই লড়াই কেবল ফুটবলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এতে জড়িয়ে থাকবে ফকল্যান্ড যুদ্ধের রাজনৈতিক আবহ, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোল এবং ২০০২ সালে ডেভিড বেকহামের পেনাল্টি গোলের পুরোনো ইতিহাস। কানসাসের কঠিন পরীক্ষা পার হওয়া আর্জেন্টিনা এবার আটলান্টায় আরেকটি মহাকাব্য লিখবে, নাকি ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ড আবার ফাইনালের টিকিট কাটবে, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য