ফুটবলবিশ্বে নতুন কোনো দেশের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয়ে গেছে। আফ্রিকার ‘অ্যাটলাস লায়ন’ মরক্কো ও ইউরোপের সুইজারল্যান্ডের সামনে সেই সুযোগ থাকলেও কঠিন বাধা পার হতে পারেনি তারা। ফলে ৪৮ দলের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে টিকে রয়েছে চার দল, যারা প্রত্যেকেই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কাকতালীয়ভাবে, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড—সেমিফাইনালে ওঠা এই চার দল বর্তমান বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েরও শীর্ষ চার দল। এই চার পরাশক্তি থেকেই ফুটবল বিশ্ব পেতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
আগামী ১৫ জুলাই, মঙ্গলবার মধ্যরাত ১টায় প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও একবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। পরদিন ১৬ জুলাই, বুধবার মধ্যরাত ১টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
মেসির আর্জেন্টিনার সামনে বেলিংহামের ইংল্যান্ড লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ১২০ মিনিটের কঠিন লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার মেসি এই ম্যাচে সুইসদের রক্ষণভাগ ভাঙতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত ল্যাটিন পরাশক্তিরাই জয়ী হয়।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মেসিদের প্রতিপক্ষ হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০১৮ সালের পর প্রথমবার সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছে ইংলিশরা। এই ম্যাচে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখে থ্রি লায়নদের রক্ষণভাগ। ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জুড বেলিংহাম জোড়া গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তোলেন। বিশ্বকাপে বেলিংহাম ও ইংলিশ অধিনায়ক কেইনের গোল এখন পর্যন্ত ৬টি করে। অন্যদিকে ৮টি করে গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড এর আগে ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৬২ সালের গ্রুপ পর্বে এবং ১৯৬৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে ইংলিশদের হারায়। এরপর ১৯৯৮ সালের নকআউট পর্বের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জেতে আর্জেন্টিনা। আর সর্বশেষ ২০০২ সালে ডেভিড বেকহামের পেনাল্টি গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড।
তিলিতাকা বনাম ধারাবাহিকতা: ফ্রান্স বনাম স্পেন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ছোট ছোট পাসের চিরচেনা ‘তিকিতাকা’ ফুটবল খেলে এবার বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। স্প্যানিশদের এই জয়ের নায়ক মিকেল মেরিনো বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুটি নকআউট ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে গোল করার কীর্তি গড়েছেন।
স্পেনের প্রতিপক্ষ কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের ফ্রান্স, যারা পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে ধারাবাহিক ফুটবল খেলছে। কোয়ার্টার ফাইনালে এমবাপ্পে পেনাল্টি মিস করার পরও মরক্কোকে বিদায় করে ফরাসিরা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। এর আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে একমাত্র দেখায় স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। সব মিলিয়ে দুই দল ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে স্পেনের ১৮ জয়ের বিপরীতে ফ্রান্সের জয় ১৩টি এবং বাকি ৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে দুই দলের সর্বশেষ দুটি ম্যাচেই জিতেছে স্পেন, যেখানে স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল একাই ৩টি গোল করেছিলেন।


