Homeলন্ডনযুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের নিয়মে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

১০ বছর শর্ত নিয়ে আপত্তি
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের নিয়মে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাস বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটির এক প্রতিবেদনে বর্তমান অভিবাসন নীতির বিভিন্ন দুর্বলতা তুলে ধরা হয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বিশেষভাবে সমালোচনা করা হয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা। কমিটির মতে, দেশত্যাগকারী বহু অভিবাসীর সঠিক তথ্য সরকারি রেকর্ডে নেই। ফলে বর্তমানে দেশে কতজন অভিবাসী অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।

৫ বছরের বদলে ১০ বছর শর্তে আপত্তি

বর্তমানে বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীরা সাধারণত পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এই সময়সীমা ১০ বছরে উন্নীত করার একটি সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

হাউস অব লর্ডসের কমিটি এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যে নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে স্থায়ী বসবাসের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, তাদের ওপর নতুন শর্ত পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর করার ধারণাকে অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে বসবাসকারী মানুষদের জন্য হঠাৎ নিয়ম পরিবর্তন অনিশ্চয়তা ও বৈধ প্রত্যাশার ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য নতুন প্রস্তাব

প্রতিবেদনে দক্ষ কর্মী, কেয়ার ওয়ার্কার এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদি অন্তর্ভুক্তির জন্য নতুন কাঠামো তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে অন্যতম প্রস্তাব হলো, নির্ভরশীল ভিসাধারীরা যেন মূল আবেদনকারীর সঙ্গে একই সময়ে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সম্মিলিত আয়ের বিষয়টিকে বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অল্প বয়সে যুক্তরাজ্যে এসে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিটির মতে, এসব শিশু ১৮ বছর পূর্ণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ বিবেচনা করা উচিত।

কর্মীদের জন্য বাড়তি স্বাধীনতার সুপারিশ

বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক অভিবাসী কর্মীর ভিসা নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়।

কমিটি প্রস্তাব দিয়েছে, ভিসাকে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্র বা সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। এতে কর্মীরা শোষণ বা বৈষম্যের শিকার হলে সহজে চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।

একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্যও একটি সমন্বিত ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো দক্ষ কর্মী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলে নতুন নিয়োগকর্তা পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের কিছু স্পনসরশিপ ব্যয় ফেরত দিতে পারে—এমন একটি নমনীয় কাঠামোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক উত্তেজনা এড়ানোর আহ্বান

কমিটির মতে, অভিবাসীদের সমাজে কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ না নিলে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক অস্থিরতা ও উত্তেজনা বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক কিছু এলাকায় দেখা দেওয়া নাগরিক অসন্তোষকে তারা পরিকল্পনার ঘাটতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর অভিবাসন আইন, কর্মসংস্থান এবং স্থায়ী বসবাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও পার্লামেন্টের মধ্যে আইএলআর নীতিকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে অপেক্ষা করছে।

এখন কী হতে পারে

হাউস অব লর্ডসের এই প্রতিবেদন আইন নয় এবং সরকারকে এটি মানতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতাও নেই। তবে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের ১০ বছর মেয়াদি স্থায়ী বসবাস পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ এখন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্নটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য