রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়া তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ মারা গেছেন। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাতিরঝিল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ১২ জুন জুমার নামাজের পর রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন একরামুন্নেছা বালক উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে পলাশের মাথায় গুলি করে সন্ত্রাসীরা।
পলাশের বাবার নাম ইউনুস খান। তার বাড়ি রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায়। তিনি যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পান মাসখানেক আগে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার দিন জুমার নামাজ পড়ে নিজ বাসভবনের নিচে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন পলাশ। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। পরপর তাকে দুই রাউন্ড গুলি করা হলে এক রাউন্ড গুলি তার মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেন স্বজনরা।
গুলির ঘটনায় পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ। মামলায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এখন পর্যন্ত ইমাম হোসেন ও মারুফ সুলতান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলায় তাদের নাম উল্লেখ না থাকলেও পুলিশ দাবি করেছে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন ইমাম হোসেন। মারুফ ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজধানীজুড়ে বেশ কয়েকটি টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের দ্বন্দ্বে তারিক সাঈদ মামুন ও খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের পর হত্যার শিকার হলেন কাইল্লা পলাশ।


