পরিত্যক্ত এক কূপে পড়ে যাওয়া ছাগলছানা তুলতে গিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে বাবা-ছেলেসহ গারো নৃগোষ্ঠীর চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চলের টেলকিতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কূপ থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন টেলকি গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪০), তাঁর ছেলে নেইমার ম্রং (১২), এলাকার জামাই গাব্রিয়াল (৪০) এবং প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৭)। মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য লাল মিয়াসহ এলাকাবাসী জানায়, বাবুল হাদিমার একটি ছাগলছানা টেলকি বাজারের উত্তর-পশ্চিমের মসজিদ এলাকার একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে গেলে ছানাটি তুলতে প্রথমে কূপে নামে শিশু নেইমার।
কিছু সময় পার হয়ে গেলেও নেইমারের সাড়া না পেয়ে কূপে নামেন বাবুল হাদিমা। একইভাবে গাব্রিয়াল এবং সবার শেষে কূপে নামেন রতন নকরেক। একে একে কূপে নামা চারজনের মধ্যে কারো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করে। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস টিম এসে পরিত্যক্ত কূপে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম পরিয়ে ফায়ার ফাইটার মনিরকে কূপে নামিয়ে দেয়। মনির একে একে সব কটি লাশ উদ্ধার করেন। মধুপুর থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হক জানান, চারটি লাশ ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে গ্রহণ শেষে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কূপটির ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অথবা অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে চারজন অচেতন হয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা লাভলু তরফদার জানান, কূপটির গভীরতা আনুমানিক ৯ থেকে ১০ ফুট।তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ভেতরে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে প্রথমে শিশুটি মারা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে নেমে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মধুপুর থানার ওসি।


