Homeঅপরাধচাকরির প্রলোভনে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

চাকরির প্রলোভনে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নোয়াখালীর এক যুবককে অপহরণ, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে গাজীপুরে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন দুপুরে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার কুতুবপুর রামপুর এলাকার মো. ইমাম হোসেন (৩৮), গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামের মো. ইমরান হোসেন (৩১), জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের পুনসহি গ্রামের মো. তারেক খন্দকার (১৯) এবং জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদী গ্রামের এলাকার মো. মাসুদুজ্জামান দুলাল (৪০)।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করা হয়েছে।

ওসি জানায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম গত ১৯ জুন কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই মো. ফরহাদুল ইসলাম ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি চায়ের দোকানে চাকরি করতেন।

অভিযোগে বলা হয়, বিমানবন্দর এলাকায় পরিচয়ের সূত্র ধরে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার কুতুবপুর রামপুর এলাকার মো. ইমাম হোসেন (৩৮) ফরহাদুল ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। পরে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে গাজীপুরে আসতে বলেন।

গত ১৬ জুন রাতে ফরহাদুল ইসলাম গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার দেওপাড়া এলাকার ঘোড়াশাল ব্রিজের নিচে পৌঁছালে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মুক্তিপণের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও স্টিলের পাইপ দিয়ে তাকে আহত করা হয়। তার দুই হাতে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং পায়ে কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে অপহরণকারীরা ফরহাদুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করার আশায় অভিযুক্তদের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরে তিন দফায় মোট ১৫ হাজার টাকা পাঠান। তবে দাবি করা পুরো অর্থ দিতে না পারায় নির্যাতন অব্যাহত থাকে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ১৯ জুন ভোরে কালীগঞ্জ থানার জামালপুর এলাকায় ডিউটিরত অবস্থায় সন্দেহজনক একটি অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অপহৃত ফরহাদুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে মুক্তিপণের পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা শামীম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানিয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সাম্প্রতিক মন্তব্য