সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদে বলেন, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়েছে। ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মণির প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার সব সময় সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে বিএসএফের ‘লেথাল উইপনস’ ব্যবহারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হলেও বিভিন্ন পর্যায়ে জবাবদিহিতা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বিএসএফ সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে অমরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতার প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি বন্দি রয়েছেন। ৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী দেশের কারাগারগুলোর অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন। বিপরীতে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৭৭ হাজার ৪০। এর মধ্যে পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬ এবং নারী ২ হাজার ৭৭ জন। অতিরিক্ত বন্দির চাপের কারণে কয়েকটি কারাগারে আবাসনসংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ), সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২, ফেনী জেলা কারাগার-২ এবং খুলনা জেলা কারাগার-২ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলা কারাগার-২ শিগগিরই চালু করা হবে। ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণ এবং নরসিংদীতে নতুন কারাগার নির্মাণের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প শেষ হলে কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা আরও ২ হাজার ৯৫৫ জন বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮ হাজার ১৩১ জনে পৌঁছাবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব সরকার সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারি দলের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের আবেদন গ্রহণের সুবিধার্থে বিভিন্ন বাংলাদেশ মিশনে ‘মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট’ (এমইকে) চালু করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের সুবিধার্থে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাসায় পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার (হোম ডেলিভারি) ব্যবস্থা চালুর কাজও চলমান রয়েছে। দ্রুত পাসপোর্ট সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ফেডএক্সের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পাসপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।
মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে তিনি এ তথ্য জানান। পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস লিখিত প্রশ্ন রেখে বলেন, আওয়ামী লীগের ১৬ বছর সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ চোরাচালান, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ ও অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য ছিল। দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে সীমান্ত সব অপরাধ নির্মূলে বর্তমান সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে বিজিবি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার মোতাবেক ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং অনুরূপভাবে ভারত সীমান্তে স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।


