২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরাটা দুর্দান্ত জয়ে রাঙাল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর ফুটবল মহাযজ্ঞে এসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নরওয়েজিয়ানরা ৪-১ গোলে হারিয়েছে চার দশক পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাককে।নরওয়ের দুর্দান্ত এই জয়ের নায়ক আর্লিং হালান্ড। দলের প্রথম দুটি গোলই করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা। বিশ্বমঞ্চে শুরুটা স্বপ্নের মতোই হলো এই ‘গোলমেশিন’-এর। নরওয়েজিয়ানদের এমন উৎসবের উপলক্ষ এনে দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত হালান্ড নিজেও।
ইরাককে হারানোর পর বুকভরা গর্ব নিয়ে বলছিলেন, ‘এটা দুর্দান্ত। সবাই আমাদের জয়ের প্রত্যাশা করেছিল। ভাগ্যবশত আমরা জিতেছিও। কোনো অঘটন ঘটেনি।
নরওয়েতে এখন কয়টা বাজে (ম্যাচের দিন) জানি না, তবে আশা করছি মানুষজন কিছুটা হলেও উদযাপন করছে। বিশ্বকাপে খেলতে পেরে এবং ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রথম জয়ে অবদান রাখতে পারায় আমি গর্বিত।’ অভিষেকের মঞ্চটা বরাবরই রাঙিয়েছেন হালান্ড। বুন্দেসলিগার পথচলার শুরুটা করেছিলেন গোলোৎসবে। জার্মানি ছেড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি দেওয়ার পরও গল্পটা ছিল অভিন্ন।প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রথম ম্যাচটা তিনি স্মরণীয় করে রাখেন প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে। ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার আসর চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম ম্যাচটাও তিনি রাঙিয়েছিলেন গোলে। আরো বড় মঞ্চ বিশ্বকাপের শুরুটাও করলেন জোড়া গোল করে দলকে অসাধারণ জয় এনে দিয়ে। ফুটবল মহাযজ্ঞে এর চেয়ে ভালো শুরু আর কী-ই বা চাইতে পারতেন হালান্ড! বিশ্বমঞ্চে তাঁর সাফল্য নিয়ে যাঁদের কিঞ্চিৎ সন্দেহ ছিল, নিজের প্রথম ম্যাচেই আলোকিত নৈপুণ্যে তা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন হালান্ড। অবশ্য বরাবরই গোলে জবাব দেওয়া তাঁর পছন্দ।
জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে কম ম্যাচে গোলের হাফসেঞ্চুরির কীর্তিটা হালান্ডেরই। গত পরশু রাতের দুটিসহ নরওয়ের হয়ে ৫১ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৫৭। স্বাভাবিকভাবে ‘গোলমেশিন’ হালান্ডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নরওয়ে কোচ স্টালে সলবাকেন। বিশ্বকাপে খেলার চাপ শিষ্যের মনে কোনো প্রভাব ফেলেনি বলেও জানিয়েছেন নরওয়ে কোচ, ‘আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে সে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে দারুণভাবে। বড় মঞ্চের চাপ কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি ওর ওপর। ম্যাচের আগে থেকেই আমার অনুভূতি বেশ ইতিবাচক ছিল। মনের ভেতর বেশ স্বস্তিদায়ক একটা বিশ্বাস ছিল যে হালান্ড আজ আমাদের জন্য ঠিকই জয় ছিনিয়ে আনবে।’
কোচের বিশ্বাসের অমর্যাদা একদম হতে দেননি হালান্ড। তাঁর লক্ষ্যভেদেই গোলোৎসবের শুরু করেছিল নরওয়ে। ডেভিড মলার উলফের বক্সে বাড়ানো আড়াআড়ি পাস থেকে একজন সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকারের মতো চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান দীর্ঘকায় এই ফরোয়ার্ড। অবশ্য তাঁদের উচ্ছ্বাস দ্রুত মিলিয়েও যায় খানিকটা পরে আয়মান হোসেন ইরাকের পক্ষে সমতা ফেরালে। আয়মানের গোলের মিনিট দুয়েক পর আবারও নরওয়েকে এগিয়ে নেন হালান্ড। ইরাকি রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়বার বল জালে জড়ান ম্যানসিটি তারকা। এক গোলে এগিয়ে থেকে মাঝবিরতিতে যাওয়া নরওয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে দ্বিতীয়ার্ধে স্কোর ৩-১ করেন লিও ওস্টিগার্ড। এরপর যোগ করা সময়ে ইরাকের গোলদাতা আয়মান হোসেন নিজেদের জালে বল পাঠালে জয়ের ব্যবধান আরো বেড়েছে নরওয়ের। ইরাককে হারিয়ে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে হালান্ডের দেশই। সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারানো ফ্রান্স গোল পার্থক্যে নরওয়ের পেছনে।


